Home » পটুয়াখালী » বাউফল » ১৩ বছর পর যুবদল নেতা হত্যা মামলায় চার্জশিট: আ’লীগের ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
২ May ২০২৬ Saturday ৪:৩৪:৩৩ PM
১৩ বছর পর যুবদল নেতা হত্যা মামলায় চার্জশিট: আ’লীগের ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
দীর্ঘ ১৩ বছর পর পটুয়াখালীর বাউফলে যুবদল নেতা মনিরুল হক মৃধা হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেনেসাঁ খান চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট, পবিত্র রমজানের ২৬ রমজানে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের টাওয়ার সড়কে মনিরুল হক মৃধা ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন বগা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মনিরুল হক মৃধা। হামলায় আহত হন নিহতের শ্যালক জাকির হোসেনও। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মনিরুল হক মৃধাকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন তিনি মারা যান। পরদিন ১০ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে শাহবাগ থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। একই দিন তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে ১১ আগস্ট নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। সিআইডির তদন্তে হত্যাকাণ্ডে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, তার ছেলে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান, মোতালেবের ভাগ্নে ইউপি সদস্য সুমনসহ মোট ১৯ জনের সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে আসে। এর আগে মামলাটি পুলিশ ও অন্য দুটি তদন্ত সংস্থা তদন্ত করলেও সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার প্রধান সাক্ষী জাকির হোসেন বলেন, প্রকাশ্যে একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। তবে এত বছর পর হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল- ২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেন বিএমপি কমিশনার