![]() মেহেন্দিগঞ্জে ভুয়া নিলাম দেখিয়ে বিদ্যালয়ের স্থাপনা বিক্রি!
৭ May ২০২৬ Thursday ৪:৪৪:৩০ PM
মেহেন্দিগঞ্জ ((বরিশাল) প্রতিনিধি: ![]() বরিশালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিলাম দেখিয়ে বিদ্যালয়ের স্থাপনা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভবনটি কিনে তা ভেঙে নিয়ে গেছেন গাজী রাসেল নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাহবুব হোসেন। তিনি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কানাইগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। উপজেলার খন্তাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই ভবন বিক্রির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে শিক্ষক মাহবুবকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা প্রকৌশল শাখা নির্ধারিত সাত লাখ টাকার ভবনটি তিনি চার লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খন্তাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারুফ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের মুখে পড়েছে।এজন্য পুরনো স্থাপনা থেকে এক কিলোমিটার দূরে জমি কিনে সম্প্রতি বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে। আগের স্থানে দুটি টিনশেড ঘর ও একটি ওয়াশ ব্লক (আধুনিক শৌচাগার অবকাঠামো) ছিল। ছোট ঘরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর পাঁচটি শ্রেণিকক্ষের বড় ঘর ও ওয়াশ ব্লকটি ভেঙে নিয়ে গেছেন ক্রেতা দাবি করা গাজী রাসেল। প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২৫ এপ্রিল গাজী রাসেল নিলাম ক্রেতা সহকারী শিক্ষক মাহবুব হোসেনের একটি কার্যাদেশ নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। এতে দেখা যায়, মাহবুব হোসেন নামের এক ব্যক্তি টিনশেড ঘর ও ওয়াশ ব্লক নিলামে কিনে নিয়েছেন। নিলামের পুরো অর্থ তিনি পরিশোধ করেছেন। তবে ওই অর্থের পরিমাণ কার্যাদেশে ছিল না। ওই কার্যাদেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাইনুল হোসেনের স্বাক্ষর ও সিল ছিল।এজন্য তিনি সঠিক মনে করেছেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, গাজী রাসেল দাবি করেন তিনি শিক্ষক মাহবুবের কাছ থেকে আবার স্থাপনাটি কিনে নিয়েছেন। তাই ভবন ভেঙে নিতে বাধা দেননি। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গাজী রাসেল বলেন, স্থাপনা তিনি নিলামে মাহবুবের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। প্রধান শিক্ষককে ওই চিঠি দেখিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী সব স্থাপনা খুলে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে মেহেন্দিগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম শিপন বলেন, গাজী রাসেল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিলামের কাগজটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন। তবে রাজনৈতিক চাপে তিনি স্থাপনা খুলে নিতে বাধা দেননি। শিক্ষক নেতা মাহবুবের কাছ থেকে সব স্থাপনা চার লাখ টাকায় কিনেছেন রাসেল। তিনি আরো বেশি দামে বিক্রি করেন। তবে ওই ভবনটির নিলাম মূল্য সাত লাখ টাকার বেশি হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে শিক্ষক নেতা মাহবুব তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা অনেক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আমি এর প্রতিবাদ করি। এজন্য আমাকে নিলাম ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে শোকজ করা হয়েছে। আর রাসেলের কাছে আমি কোনো ভবন বিক্রি করিনি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল হোসেন বলেন, আমার স্বাক্ষর স্ক্যান করে জাল নিলামপত্র তৈরি করা হয়েছে। এটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই এবং প্রধান শিক্ষককে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে বলি। কিন্ত প্রধান শিক্ষক ভয়ে জিডি করেননি। এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিক্ষক নেতা কানাইগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুব হোসেনকে শোকজ করেছি। শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান এবং দুইজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন প্রধান শিক্ষককে সদস্য করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠাবো। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

