![]() ৩ শিক্ষার্থীর জন্য ৮ শিক্ষক ও ৩ কর্মচারী
৭ May ২০২৬ Thursday ৪:৫৭:৩৬ PM
নাজিরপুর ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি: ![]() পিরোজপুরের নাজিরপুরের শাঁখারীকাঠী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস করে ৩ জন শিক্ষার্থী। তিন শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়টিতে ৮ শিক্ষক ও ৩ কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা অফিস সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গল্প ও ঘুমিয়ে সময় কাটান অভিযোগ রয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়টিতে সরেজমিন দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক অফিসকক্ষে বসে গল্প করছেন।আরেকজন শিক্ষক ক্লান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছেন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক স্মার্ট ফোনে ইউটিওব দেখছে। প্রধান শিক্ষক এরই মধ্যে হাজিরা সেরে বাড়ির পথে। ওই দিনের হাজিরা খাতায় ৩০ জনের উপস্থিতি থাকলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল ৩ জন। বছরের পর বছর এমন অনিয়ম চলে আসছে স্কুলটিতে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে সপ্তম তিনটি শ্রেণি রয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২ জন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করেন। এ ছাড়া অষ্টম শ্রেণিতে কেউ ক্লাস করেন না। বিদ্যালয়ের খাতা কলমে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকলেও তার ক্লাস করেন না।স্কুলে সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে ছুটে আসেন প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র বড়াল। তাকে জিজ্ঞাসা করলে জানান, তিনি শিক্ষক-কর্মচারীর হিসাবটা জানলেও ছাত্রীদের হিসাব জানেন না। কোন ক্লাসে কতজন ছাত্রী প্রতিদিনের উপস্থিতির খবর রাখেন না। এরপর প্রধান শিক্ষক তার অবসরের তিন মাস বাকি জানিয়ে সংবাদ না প্রকাশেল জন্য ওই সাংবাদিককে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বুধবার দুজন ক্লাস করেছে এবং খাতা কলমে অন্য শিক্ষার্থীদের চেনে না বলে জানিয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সংগীতা ঘরামী। রোল না জানা মাহবুবা নামের এক ছাত্রী জানায়, প্রতিদিন তারা ৫ জন ক্লাস করে। ৫ জনের তিনজন আজকে কোথায় জানতে চাইলে বলে, ১ জন বরিশাল, ১ জন বাড়ি, ১ জন এখানে ভর্তি হয়ে মাদরাসায় পড়ে। সপ্তম শ্রেণির হাজিরা খাতায় ২৬ জন ছাত্রী উল্লেখ থাকলেও ক্লাস রুমে মিলল তৃপ্তি মজুমদারকে। সে জানায়, তারা ৮ জন সহপাঠী ১ জনও আসে না। ৮ জন সহপাঠীদের নাম-ঠিকানা জানে না। ৭ম শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া অরুণ কুমার মিস্তি নামের কৃষি শিক্ষক জানান, আজকে ১ জন ছাত্রী আছে, বাকিরা ধানের জন্য আসে নাই। কাগজে-কলমে ২৫ জনের মতো রেগুলার ৫-৭ জন আসে। তিনি জানান, স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা কম সেটা অনেকবার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে। মাহফুজা নামের এক শিক্ষিকা জানান, ঊর্ধ্বতন কাউকে শিক্ষার্থী কম সেটা বলা হয় না। কিন্তু মাঝে মাঝে তারা আসেন, এসে শিক্ষার্থী বাড়ান বলে চলে যায়। নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। এই স্কুলটা সম্পর্কে আমার ধারণা নাই। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

