" />
AmaderBarisal.com Logo

কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের মানববন্ধন 


আমাদেরবরিশাল.কম

৮ May ২০২৬ Friday ৪:০৩:৩৬ PM

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি:

কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি ও মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনুস সরকার সাংবাদিকদের চরম ভাবে  নির্যাতন করেছে। দেশের ইতিহাসের এতো সংখ্যক সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা ও আটকের খারাপ নজির স্থাপন করেছে। এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনের আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, ইউনুস আমলে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া সাংবাদিকদের নির্যাতন বন্ধ করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। তারা যদি সেই দায়িত্ব না নেয় তাহলে ধরে নিতে হবে আপনারা সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আপনারা সাংবাদিকদের মুক্ত করে দিন। তাহলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

মানববন্ধনে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেই বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মুক্তমনাদের ওপর আঘাত হানে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, মাজার, পীর ফকির আউলিয়ার সমাধী থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ রাস্ট্রীয় নীতির অংশ করে নেয় ইউনূসগংরা।

রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাংবাদিকদের ওপর চাপ, হয়রানি ও সহিংসতার অংশ হিসেবে শত শত সাংবাদিককে আইনি হয়রানি, শারীরিক হামলা, মামলা, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডই শুধু বাতিল করা হয়নি, হাজারেরও বেশি সাংবাদিকদের চাকরীচ্যুতি করা হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিক হত্যায়ও মদদ দিয়েছে তারা। 

বিভিন্ন সময় এদেশের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হলেও ইউনূসের আমলে নির্যাতনের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি মব সহিংসতাকেও উস্কে দিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র অফিসে আগুন দিয়ে সাংবাদিকদের হত্যার চেষ্টা করেছে —এসব ঘটনা ইউনূস দায়মুক্তি দিয়ে ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন। 

ইউনূসের সাংবাদিক নির্যাতনের খন্ডচিত্র তুলে ধরে শেখ জামাল জানান, শাহরিয়ার কবীর, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, শেখ জামাল, মঞ্জুরুল আলম পান্না, আনিস আলমগীরসহ সারাদেশে ৪৭ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকজন এখনো কারাগারে। এছাড়া মেহেদী হাসান, শাকিল হোসেন, তাহির জামান, এটিএম তুরাব, প্রদীপ কুমার ভৌমিক, সোহেল আখঞ্জিসহ ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়।

তিনি জানান, জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলের জেষ্ঠ সাংবাদিকসহ সারাদেশে ৪৪৯ জন সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা দেয়া হয়। যা এখনো বহাল আছে। এছাড়া জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও টেলিভিশনগুলোর বার্তা প্রধান ও সাংবাদিকসহ সারাদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১২০০ সংবাদদাতাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় পদ দখল করা হয়েছে। বিটিভি, একাত্তর টিভি, সময় টিভি, ডিবিসি, গান বাংলা, এটিএন নিউজ, এটিএন বাংলা, মাইটিভি, বিজয় টিভি, নিউজ২৪ ও আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময়, দৈনিক মুখপাত্র, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলা নিউজ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস ভাংচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।  নজীরবিহীনভাবে ১৬৮ সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের ৭০০ জন সদস্যের পদ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের দেশত্যাগে বেআইনি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ৪৭ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শেখ জামাল বলেন, ইউনূসের আমলে যে নিপীড়ন চলেছে এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন নির্যাতন নিপীড়ন করতে না পারে সেই লক্ষে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’ গড়ে তুলেছে।  মানববন্ধন থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। দেশের সকল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে হবে। ডিইউজে ও বিএফইউজে অফিস খুলে দিতে হবে। অফিসের টাকাসহ মালামাল লুট করে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিচার করতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাবের  সাংবাদিকদের সদস্যপদ ফেরত দিতে হবে। সাংবাদিকের এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ প্রত্যহার করতে হবে। বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বাক আকতার হোসেন এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শেখ জামালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জে এম রউফ, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) কোষাধ্যক্ষ সোহেলী চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক আসাদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক  জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেল,

নির্বাহী সদস্য সাজেদা হক, একেএম ওবায়দুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক অর্থ সম্পাদক রেজাউল কারীম, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য রারজানা সুলতানা, রহিমা খানম, রমজান আলী, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম রফিক, শফিউর রহমান, ওয়ারেসুন্নবী খন্দকার, মাজেদুল ইসলাম পাবেল, এস এম কামরুজ্জামান সাগর, শেখ ইমন আহমেদ, নাইমুর রহমান স্বপন, গাজী তুষার আহমেদ, বিউটি রানী, জয়নাল আবেদীন বাপ্পি প্রমূখ।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।