বাউফলে দ্বিতল স্কুল ভবনে ‘৭৪ কোটি’, টয়লেটে ‘দুই কোটি’ টাকা!
আমাদেরবরিশাল.কম
৯ May ২০২৬ Saturday ৬:৫১:৩০ PM
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা এবং একটি টয়লেট নির্মাণে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য সম্বলিত নামফলক ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আতিকুর রহমানের করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পরে জানা যায়, দুটি ক্ষেত্রেই মূল ঘটনা ‘টাইপজনিত ভুল’। তবে এমন ভুলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। চলতি মাসের ৭ তারিখে আতিকুর রহমান কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল ভবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভবনের নামফলকে নির্মাণ ব্যয় দেখানো হয় ৭৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৭৪ টাকা। উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় চারতলা ফাউন্ডেশনের দ্বিতল ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ছিল ৭৩ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা। ২০১৭ সালে কাজটি হস্তান্তর করা হয়।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, একটি গ্রামীণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য কীভাবে নামফলকে উল্লেখ করা হলো। এর আগে সূর্যমণি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইদু হাওলাদারের বাড়ির সামনে একটি মসজিদের পাশে নির্মিত টয়লেটের দেয়ালে লাগানো নামফলক নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক দেখা দেয়। সেখানে ব্যয় দেখানো হয়েছিল ১ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩ টাকা। ছোট একটি টয়লেট নির্মাণে এমন বিপুল ব্যয়ের অঙ্ক দেখে বিস্মিত হন স্থানীয়রা। পরে আতিকুর রহমান ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটিও দ্রুত ভাইরাল হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডির রাজস্ব তহবিলের আওতায় মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়। প্রকৃত ব্যয় ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৩ টাকা। নামফলকে সংখ্যাগত ভুলের কারণেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। দুটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রকল্পের নামফলকে এমন গুরুতর ভুল কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল। বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই এলজিইডিকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে যদি এমন বড় ধরনের ভুল হয়, তাহলে তা শুধু হাস্যরস নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নামফলক তৈরির সময় টাইপিং ভুলের কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তা সংশোধন করা হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।