![]() বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
১০ May ২০২৬ Sunday ১০:০৪:১৪ PM
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: ![]() বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের ১৮ দিনে এসে ক্যাম্পাস শাটডাউন ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ববির প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই শিক্ষক। এছাড়াও ববি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। এতে ববির একাডেমিক ও শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হলো। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে। রোববার শিক্ষকদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য ও আন্দোলনত শিক্ষকদের দাবি- চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে ৩০ এপ্রিল ববিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে পদোন্নতি দিতে ববিতে বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধুমাত্র পাঠদানে ফিরেছিল। শিক্ষকরা বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল- শুক্রবারের (৮ মে) ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে; কিন্তু ববি উপাচার্য ববির বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা করেননি। তাছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে ববিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাই আন্দোলনরত শিক্ষকরা রোববার সভা করে ববি শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে ববি প্রক্টর পদোন্নতি প্রত্যাশী ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল ও সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন। ববির একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমানে ফাইনাল, মিডটার্ম, ক্লাশ টেস্ট এবং ক্লাশ চলছে। এভাবে দিনের পর দিন ক্যাম্পাস অচল থাকলে আমাদের শিক্ষা বিষয়ক সংকট আরও বাড়বে। তাই দ্রুত এ সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পদত্যাগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, সংকট সমাধানে উপাচার্য আমাদের ন্যায্য দাবি উপক্ষোয় করায় সহকর্মী শিক্ষক-কর্মকতারা হতাশ। চলমান সংকট সমাধানসহ সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যকে একাধিকবার অনুরোধের পরও তা কোনো কাজে আসেনি। তাই পদত্যাগ করেছি। ববির সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, আমি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবি আদায়ের পক্ষে কথা বললেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। এ কারণে আমি আমার পথ থেকে পদত্যাগ করেছি। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে- আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক। দুই শিক্ষকের পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমার কাছে এখনো পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি দেবে- তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউজিসি চিঠি দিয়ে সেই পদোন্নতি কার্যক্রম আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিতে বলে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই আগে ২০২১ সালের নীতিমালা সিন্ডিকেট পাশ করে ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে বরাবর জানিয়ে আসছে ববি প্রশাসন। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

