![]() নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে
১১ May ২০২৬ Monday ৬:৩৮:০৬ AM
![]() বাবুগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙ্গিত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখক, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রত এ সমস্যা সমাধানে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের দাবি সেবা প্রত্যাশীসহ সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় খন্ডকালীন কর্মকর্তা দিয়েই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান খন্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ যোবায়ের হোসেন ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে কেবল বুধবার দলিল সম্পাদনের কাজ হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ অপেক্ষা করেও অনেক সময় কাজ শেষ করতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত দিনে ভিড় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে তিন দিন রহমতপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস চালু থেকেও সেবাগ্রহীতাদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে এখন মাত্র একদিন অফিস চলছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আওতায় ৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ বসবাস করেন। প্রায় দেড় বছর ধরে স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে জমি রেজিস্ট্রি হচ্ছে না ঠিকমতো। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষও হচ্ছে নাজেহাল। এক জন সাব-রেজিস্ট্রারকে পালাক্রমে (হিজলা,বাকেরগঞ্জ এবং বাবুগঞ্জ) এ তিন উপজেলায় দায়িত্ব দেওয়ায় দলিল রেজিস্ট্রি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। এতে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। রহমতপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা বলছেন সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। শুধু তাই নয়, বেলা ১১ টায় দলিল সাবমিট করলে বিকাল ও সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। দেহেরগতি গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন সকালে জমির দলিল রেজিট্রি করতে আসলে রাত হয়ে যায়। এতে করে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে আমাকে। সপ্তাহে একদিন অফিস করলে চাপ থাকে অনেক। কাঙিক্ষত সেবাটি আমি পাইনি। অপর দিকে সময় অপচয় হয়েছে। রহমতপুর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান রতন তালুকদার বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। দলিল একেবারেই কমে গেছে। এতে এই পেশার সঙ্গে জড়িত দলিল লেখক, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীরা বেকার হয়ে পড়ছেন। রহমতপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কাজের যে ভলিয়ম তাতে ৫ দিন অফিসের কার্যক্রম চালু রাখার কোনো বিকল্প নেই। রহমতপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জুয়েল তালুকদার বলেন, রহমতপুর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বর্তমানে এক দিনে প্রায় ৭০টি দলিল সম্পাদন হচ্ছে, যেখানে আগে সপ্তাহে তিন দিন কার্যক্রম চলাকালে ২০০-৩০০টি দলিল সম্পাদিত হতো। এতে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জোর দাবি করছি, নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ৫ দিন অফিস চালু রাখার ব্যবস্থা করতে। রহমতপুর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্ট্রার মোঃ যোবায়ের হোসেন বলেন, আমি খন্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। একসঙ্গে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব দেওয়ায় হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সব জায়গায় নিয়মিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। রহমতপুর কার্যালয়ে আমার সপ্তাহে এক দিন অফিস করার নির্দেশ রয়েছে। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ মোহছেন মিয়া বলেন, সাব রেজিস্ট্রার বদলি ও এলপিআ যাওয়ায় পদ শূন্য থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। রহমতপুর সাব রেজিস্টি অফিসে একদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রারের যোগদানের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। আশা করছি দ্রত সময়ের মধ্যে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার যোগদান করবেন। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

