চরফ্যাশনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতার ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ফাঁ-স
আমাদেরবরিশাল.কম
১১ May ২০২৬ Monday ১২:১৬:৫০ PM
চরফ্যাশন ((ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাসনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌরসভা ও এডিবি অর্থায়নের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় সূত্র ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাসন পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের একটি সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে নিজের বাড়ির প্রবেশপথ ও উঠান পাকা করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া মালতিয়াবাড়ি সড়ক ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ব্যক্তিগত কাজে ওই প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এখনো সড়ক দুটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসান বলেন, “কাজ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতার বাড়ির যে অংশ পাকা করা হয়েছে, সেটির কোনো টেন্ডার হয়নি। ঠিকাদারকে চাপ প্রয়োগ করে কাজ করানো হয়েছে।” ওই কাজের ঠিকাদার কাজী মান্নান হোসেন বলেন, “স্টেডিয়ামের পেছনের সড়কের কাজের ঠিকাদার ছিলাম আমি। কিন্তু আলমগীর মালতিয়া সড়কের কাজ বন্ধ রেখে জোর করে তাঁর বাড়ির দরজা ও উঠান পাকা করিয়েছেন। এ কারণে আমি এখনো কাজের বিল পাইনি।” এলজিইডির বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরেকটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাবেক ইউএনও রাশনা শারমিন মিথি বলেন, “তিনি বিভিন্ন কাজ হাতিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনো বিলে স্বাক্ষর করিনি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” এদিকে চরফ্যাসন মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল অপসারণ করে নিজের ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, এতে মসজিদের প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। আলমগীর মালতিয়ার ছেলে আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধেও চরফ্যাসন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চরফ্যাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তখন এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। কমিটির সদস্যরা চরফ্যাসনে সরেজমিন তদন্ত করে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চরফ্যাসন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পদ হারানোর পরও তাঁর তৎপরতা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালে চরফ্যাসনের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা নিয়েও আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগ নিয়েও পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলা যুবদল নেতা সায়েম মালতিয়া বলেন, “১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন বলেন, “বিএনপি কোনো নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় নেয় না। মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কেউ নন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।