![]() ভোলায় কুরবানির হাট মাতাবে আপেল-কমলা খাওয়া কালাচান ও সাদাচান
১২ May ২০২৬ Tuesday ৫:১১:৩৯ PM
ভোলা প্রতিনিধি: ![]() ভোলা সদর উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিক্রির উদ্দেশে ২২ মণ ওজনের ‘কালাচান’ ও ১৮ মণ ওজনের ‘সাদাচান’ নামে দুটি গরু প্রস্তুত করেছেন এক খামারি। যা আশপাশের লোকজনের মধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরমনোষা গ্রামের বেপারি বাড়িতে দুলাল বেপারি তার খামারে দেশিয় পদ্ধতিতে মোট ১০টি গরু লালন পালন করছেন। এরমধ্যেই রয়েছে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের কালাচান ও সাদাচান। কালাচানের দাম হাঁকাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা ও সাদাচানের দাম ৭ লাখ টাকা। প্রতিটি গরুকে ভিন্নভাবে দৈনিক দুই বেলায় খাওয়ানো হয় ৯ কেজি করে ১৮ কেজি দানাদার খাবার। এছাড়া ছোট সাইজের আরও ৭টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সরেজমিনে খামার ঘুরে দেখা যায়, কুরবানির হাটে গরু তুলতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দুলাল। এছাড়াও এতে জড়িত রয়েছেন খামারির স্ত্রী ও ছেলে। খামারি জানান, স্থানীয় মালেরহাট এলাকার একটি খামার থেকে কালাচান ও সাদাচানের মাকে ক্রয় করেন তিনি। বাচ্চা প্রসবের পর পুনরায় প্রজনন ক্ষমতা হারানোয় হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের সেসব গরু বিক্রি করে বাচ্চা দুটিকে পালন শুরু করেন। বর্তমানে কালাচান ও সাদাচানের বয়স প্রায় ৩ বছর। খামারি দুলাল বেপারি বলেন, আমি গরু কেনাবেচা করি। আমার খামারের হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি গাভীর বাচ্চা হচ্ছে কালাচান আর সাদাচান, গত ৩ বছর ধরে দেশিয় পদ্ধতিতে লালন পালন করতেছি। কালাচানের ওজন প্রায় ২২ মণ আর সাদাচানের ওজন প্রায় ১৮ মণ। কালাচানের দাম নির্ধারণ করেছি ৮ লাখ আর সাদাচানের দাম ৭ লাখ, মোট ১৫ লাখ টাকার কমে গরু দুটি বিক্রি করলে লোকসান হবে। তিনি আরও বলেন, কালাচান আর সাদাচান আমার অনেক শখের গরু। গরুগুলোকে সন্তানের মতো আদর যত্নে বড় করেছি। প্রতিটি গরুকে সকাল-বিকাল ৯ কেজি করে দানাদার খাবার দেই। এরমধ্যে রয়েছে ২ কেজি মিষ্টি কুমড়া, ১ কেজি আলু, ১ কেজি গরুর ফিড, আড়াই কেজি ভুট্টার ভুসি ও আড়াই কেজি গমের ভুসি। এছাড়া প্রতিদিন দুপুরে ৫ কেজি করে খেতে উৎপাদিত জার্মান ঘাস (নল ঘাস) খাওয়াই। প্রতি শুক্রবারে ১ কেজি করে আপেল অথবা কমলা দেই। আসলে গত দেড় বছর ধরে গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ভূসির দাম বেড়েছে প্রকারভেদে ২৫০-৪০০ টাকা, এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ওই গ্রামের বাসিন্দা মো.সাইফুল আজিজুল ও সালাম বেপারি বলেন, কালাচান ও সাদাচানের মতো এতবড় গরু আমাদের গ্রামে আর নেই। গরুগুলো দেখতে দূরদুরান্তের মানুষজন আসেন, সময় পেলেই আমরা গরুগুলো দেখতে যাই। আমাদেরও ইচ্ছে আছে দুলাল বেপারির মতো গরুর খামার দেব এবং বড় বড় গরু পালন করব। এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, খামারি দুলাল আমাদের সঙ্গে সার্বিক পরামর্শ করে প্রাকৃতিক উপায়ে কালাচান ও সাদাচানকে লালন পালন করেছেন। আশা করছি, তিনি কাঙ্ক্ষিত দামে গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন এবং তিনি লাভবান হবেন। খামারিরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য আমরা তাদের প্রযুক্তিগত অন্যান্য পরামর্শ প্রদান করছি। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

