" />
AmaderBarisal.com Logo

দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে জাতীয় দলে খেলতে চায় পিরোজপুরের নাদিরা


আমাদেরবরিশাল.কম

১৩ May ২০২৬ Wednesday ৪:২৩:২৬ PM

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে কেবল একটি ত্রাণের ঘর। ঘরের এক কোনে ঝুলছে স্কুলব্যাগ, আর অন্য পাশে যত্নে রাখা একটি ফুটবল।

সেই ফুটবলই যেন বদলে দিয়েছে পিরোজপুরের উত্তর পৈকখালীর কিশোরী নাদিরা আক্তারের জীবন। দিনমজুর বাবার সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। কিন্তু মাঠে নামলেই নাদিরা হয়ে ওঠে এক দুর্দান্ত লড়াকু ফুটবলার। পায়ের জাদুতে গোল হয়, দল জেতে, আর দর্শক মুগ্ধ হয় তার ফুটবল খেলা দেখে।

সম্প্রতি পিরোজপুরে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জেলা পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে সবার নজর কাড়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নাদিরা। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতির পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জিতেছে সে। এখন তার লক্ষ্য, বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে নিজের সেরাটা প্রমাণ করা।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের উত্তর পৈকখালী গ্রামের মো. দুলাল আকন ও শাহিদা আক্তার দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় নাদিরা।

নাদিরা বর্তমানে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা দিনমজুর হওয়ায় সংসারে অভাব লেগেই থাকে। বড় ভাই নাঈম অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে বাবার সঙ্গে কাজে নেমেছেন। মেজ ভাই নাহিদ এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ভাই এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তবে এ কঠিন বাস্তবতাও হার মেনেছে নাদিরার স্বপ্নের কাছে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সঙ্গে মাঠে খেলতে ভালো লাগত তার। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথমবার স্কুল দলের হয়ে মাঠে নামে। এরপর ধীরে ধীরে ফুটবলই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

গত ৮ মে পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের নকআউট, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে ছিল নাদিরার দাপুটে উপস্থিতি। তিন ম্যাচে একাই করেছে ছয় গোল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে একের পর এক গোল করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে সে। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দল ফাইনালে উঠলেও টাইব্রেকারে ২-১ গোলে হেরে যায়। তবে পুরো টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সব আলো ছিল নাদিরার দখলে।

নাদিরার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় নাদিরার ইচ্ছা যেন প্রবল হয়েছে।

নাদিরা জানান, আমার খুব ইচ্ছা দেশের হয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলতে চাই। কিন্তু আমাদের পরিবারের অবস্থা ভালো না। বাবার পক্ষে খেলার কোচিং করানো সম্ভব না। যদি ভালো প্রশিক্ষণ আর একটা সুযোগ পাই, তাহলে অনেক দূর যেতে পারব।

নাদিরার বাবা দুলাল আকন বলেন, ‘আমার স্বপ্ন, মেয়েটা একদিন দেশের হয়ে খেলবে। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, দিনমজুরি করে সংসার চালাই, ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি আমার মেয়ের দায়িত্ব নেন এবং ওর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে নাদিরা একদিন জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলতে পারবে।’

ক্রীড়া শিক্ষক বুশরা আক্তারের জানান, নাদিরা প্রতিভাবান। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার আত্মবিশ্বাস অনেক শক্ত। প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘গ্রামের একটি মেয়ের এমন অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে। তার প্রতিভা ধরে রাখতে সরকারি কিংবা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা খুব জরুরি।’

বর্তমানে নাদিরা আক্তার বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস খেলাকে সামনে রেখে পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।