বরিশালে এবার স্থানীয় পশুতেই মিটবে চাহিদা, আকর্ষণ মাঝারি আকৃতির গরু
আমাদেরবরিশাল.কম
১৮ May ২০২৬ Monday ৭:০৭:৩২ PM
বিশেষ প্রতিনিধি:
বরিশালের পশুর হাটগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। আসন্ন ঈদুল আজহায় বরিশাল বিভাগে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। খামারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রস্তুত থাকা দেশীয় পশু দিয়েই এবার মিটবে কোরবানির শতভাগ চাহিদা বলে জানায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।
সরেজমিনে বরিশালের পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, এবারের হাটের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। বিশালদেহী গরুর চেয়ে ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ এখন মাঝারি আকৃতির পশুর দিকে। বাজেট মেলাতেই মধ্যবিত্তের এই ঝোঁক। পাশাপাশি প্রথাগত হাটের ঝামেলা এড়াতে খামারগুলোতে ‘লাইভ ওয়েটে’ পশু কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন ক্রেতারা।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগে এবার কোরবানির পশুর মোট চাহিদা চার লাখ ৭৮৩টি। যার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে চার লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার চেয়েও প্রায় ৬৮ হাজার পশু বেশি রয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে বিভাগে এবারে কোরবানি পশুর হাটের সংখ্যা ৩৬৭টি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এবার বিভাগে গরুর সংখ্যা তিন লাখ ২৪ হাজার ৫২৬টি, মহিষ ৯ হাজার ৮০৫টি, ছাগল এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯০টি এবং ভেড়ার সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৪টি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় খামারিরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে পশু লালন-পালন করেছেন। চাহিদার তুলনায় বিভাগে পর্যাপ্ত পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, তাই বাইরে থেকে পশু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করতে এবং ক্রেতারা যাতে সুস্থ ও নিরাপদ পশু কিনতে পারেন, সেজন্য পুরো বিভাগে ১১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’
এ দিকে বিভাগের পটুয়াখালী এবং বরগুনার আমতলীর মতো বিশাল হাটগুলোতে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। পছন্দের পশুকে ঘিরে উৎসুক ক্রেতাদের জটলা বাড়ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরে মুখরিত হচ্ছে হাটগুলো। তবে হাটে আসা অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ক্রেতার ঝোঁক মাঝারি সাইজের গরুর দিকে।
আমতলীর হাটে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর গরুর দাম বেড়েছে ১০-২৫ টাকা পর্যন্ত। তাই বাজেটের সঙ্গে মেলাতেই মাঝারি গরুর খোঁজ করছি।’
অন্যদিকে বিক্রেতা আবদুল খালেক মিয়া দাম বেশির কারণ জানিয়ে বলেন, ‘গো-খাদ্যের বাজার এখন আকাশছোঁয়া। খৈল, ভুষি, খড়ের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে পশু লালন-পালন করতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। ক্রেতারা চড়া দামের কথা বললেও গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে আমাদের খুব বেশি লাভ থাকছে না।’
এ দিকে বরগুনার আমতলীর গরুর হাটে ঢাকা থেকে আসা পাইকার রহমান আলী বলেন, ‘এই হাট থেকে কোনো ধরনের চাঁদা বা ভোগান্তির রূপ ছাড়াই, নির্বিঘ্নে পছন্দের পশু কিনে ফিরতে পারছি। পথেও কোনো হয়রানি নেই।’
প্রথাগত ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি এবার বরিশালের খামারগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কোনো রকম দরদামের ঝামেলা ছাড়াই এখানে বিক্রি চলছে ‘লাইভ ওয়েটে’। ওজনে মাপা মাংসের হিসেবে হাসিমুখে পছন্দের পশু কিনছেন অনেক ক্রেতা।
বরিশাল শহরের সাদ সাইদ এগ্রো খামারে পশু কিনতে আসা চাকরিজীবী ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘হাটের কাদা-মাটি আর হাসিল দেয়ার ঝামেলা নেই। লাইভ ওয়েটে স্পষ্ট হিসেবে গরু কেনা যাচ্ছে, এটাই অনেক স্বস্তির।’
পশুর হাটগুলোসহ আসা-যাওয়ার পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জাল টাকার ব্যবহার রোধ ও সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ টিম কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাইদ নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘পশুর হাটগুলোসহ আসা-যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে। মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি বা কোনো ধরনের চাঁদাবাজির চক্র যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সাদা পোশাকে ও সাইবার ইউনিটের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, ‘সুশৃঙ্খলভাবে কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার, স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেনা-বেচা শেষ করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।