" />
AmaderBarisal.com Logo

কলাপাড়ায় দূর্দশা দেখাতে পায়রা বন্দর চেয়ারম্যানকে ঈদের দাওয়াত দিলেন উচ্ছেদ আতংকে থাকা ১৩৬ পরিবারের সদস্যরা।


আমাদেরবরিশাল.কম

২৪ May ২০২৬ Sunday ৭:৪৯:৩৬ PM

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।


পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যানকে ঈদ শুভেচ্ছা জনিয়ে আমন্ত্রণ পত্র উচ্ছেদ আতংকে থাকা জিয়া কলোনীর ১৩৬ পরিবারের সদস্যরা। সরকারী বেড়িবাঁধের বাইরে জীবনযাপনের দুঃখ দূর্দশাগ্রস্ত পরিবারের জীবনযাত্রার চিত্র স্বচক্ষে দেখাতেই এই উদ্যোগ। রবিবার সকাল ১১ টায় কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের জিয়া কলোনীর শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুরা ঈদ শুভেচ্ছা মিছিল নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর এ ঈদের দাওয়াত কার্ড এবং তাদের দাবি পৌঁছে দেন। পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান’র একান্ত সচিব আহসান হাবিব জিয়া কলোনীর বাসিন্দাদের দাওয়াত কার্ড গ্রহণ করেন।
ভূক্তভোগীদের সূত্রে জানাগেছে, পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের পাশে ইটবাড়িয়া গ্রামে বেড়িবাঁধের ঢালে জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে। বাস্তুভিটাহীন হওয়ার কারণে ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে পরিবারগুলোকে বসবাসের সুযোগ দিয়েছিল। তখন জঙ্গল সাফ করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করে আসছে। বেড়িবাঁধের বাইরের দিকে বসবাস করার ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোছ¦াস এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। তারপরও মাছ ধরে, ইট ভাটায় কাজ করে, নির্মাণ শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে বিভিন্ন টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে এই বেড়িবাঁধের উপর প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তখন থেকেই পরিবারগুলো উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর সময়ে জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারের সদস্য লাইলী সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমরা পায়রা বন্দরের সবচেয়ে কাছের মানুষ। বন্দরের বিল্ডিং এর পাশের বাঁধের উপরে আমরা বসবাস করি। আমাদেরকে যে কোন সময়ে উচ্ছেদ করা হতে পারে। তাই এই ঈদে আমরা (পায়রা বন্দর) চেয়ারম্যানকে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত জানাইছি।
মোঃ ফোরকান হাওলাদার বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। আজকে বন্দর চেয়ারম্যানকে ঈদের দাওয়াত দিতে এসেছি। ঈদের দিনে তিনি যদি একবার আমাদের কলোনী দেখতে আসেন তাহলেই আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন।”
কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের একেবারেই কাছেই জিয়া কলোনীর অবস্থান। কিন্তু তিনি কখনো এখানে আসেননি। তাই চেয়ারম্যান মহোদয় ঈদের দিনে এই পরিবারগুলোকে দেখতে আসবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। সেই সাথে উচ্ছেদের আগেই এই পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থ ৩,৪২৩ টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য কোন ধরনের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ অথবা সহযোগীতা করা হচ্ছে না। ফলে সরকার ঘোষিত ভূমিহীন মুক্ত কলাপাড়ায় এই পরিবারগুলো নতুন করে বাস্ত ভিটাহীন হতে যাচ্ছি। আমাদের প্রশ্ন হলো, নিজস্ব জমিতে বসবাসকারী পরিবারর জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন করা হচ্ছে। অথচ ভূমিহীন পরিবার হলেও আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও কোন পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে না।
ভূক্তভোগী শাহানা বেগম বলেন, “সরকারের প্রয়োজন হলে রাস্তা করবে তাতে আমাদের কোন অসুবিধা নাই কিন্তু আমরা যারা রাস্তার পাশে ভূমিহীন আছি আমাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু সরকার করে দিক। আমরা কোনো চাকরি, ক্ষতিপুরন, অন্য যে কোন সুবিধা চাই না শুধু আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে মাথা গোজার স্থান চাই। তাই অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবাররের মতো আমাদেরকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হোক।”
ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের আরো বলেন যে, উল্লেখিত রাস্তাটির পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত কিনা আপনারা অনুসন্ধান করে দেখবেন। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সামগ্রিক বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবী জানাচ্ছি। সেই সাথে নদী তীর এবং খাস জমির দখলের উদ্দেশ্যে এই রাস্তা করা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন এবং প্রকৃত সত্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
উল্লেখ্য, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথম টার্মিনাল থেকে টিয়াখালীতে প্রশাসনিক ভবন সাথে যুক্ত হওয়ার বিকল্প সড়ক হিসাবে পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে সাড়ে পাঁচ কিঃমিঃ রাস্তা নির্মাণ করার কাজ শুরু করেছে। এই রাস্তা নির্মাণের জন্য জিয়া কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী আনুমানিক ১৩৬টি ভূমিহীন পরিবারকে উ”েছদ করা হবে। এই পরিবারগুলো যেখানে বসবাস করে সেই জমির মালিক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড তাই উ”েছদ করা হলেও কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করা হবে না বলে জানা যায়।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।