![]() মহাকালের চাদরে ইতিহাসের সারথি: তোফায়েল আহমেদ ও একটি যুগের অবসান
১ June ২০২৬ Monday ৮:৪৮:৪৭ PM
- বাহাউদ্দিন গোলাপ: ![]() 📌 নশ্বর পৃথিবীর এটাই নিয়ম—সব আলোকেই একদিন মহাকালের গর্ভে বিলীন হতে হয়। কিন্তু কিছু জীবন নিভে যাওয়ার পরও তার আভা রেখে যায় শতাব্দীর দিগন্তে। ১ জুন, ২০২৬, সোমবার; ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল সাড়ে ৩টা। চারদিকের প্রখর রোদ যখন ম্লান হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম চালিকাশক্তি ও অবিসংবাদিত নেতা তোফায়েল আহমেদ। আমাদের মহান মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম রূপকার, স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের মহানায়ক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এই সহচরের প্রস্থান কেবল একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের বিদায় নয়; বরং এটি রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের একটি জীবন্ত ও প্রত্যক্ষ অধ্যায়ের মহাপ্রস্থান। চিরচেনা সেই শুভ্র পায়জামা-পাঞ্জাবি আর কালো মুজিব কোটে আবৃত, হাত নেড়ে উত্তাল জনসমুদ্রকে জাগ্রত করা রাজপথের সেই সিংহপুরুষ আর কোনোদিন আমাদের মাঝে ফিরবেন না। এই দূরদর্শী নেতার জীবন ও রাজনীতির পরিক্রমা শুরু হয়েছিল নদী-বিধৌত ভোলার পললভূমিতে। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আজাহার আলী ও মাতা ফাতেমা খানম। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল ও খায়েরহাট জুনিয়র হাইস্কুলে প্রাথমিক পাঠ শেষে তিনি বোরহানউদ্দিন হাইস্কুলে লজিং থেকে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ভোলা সরকারি হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে বিজ্ঞান শাখায় ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে তিনি ভর্তি হন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে। এই কলেজ থেকেই তিনি ১৯৬২ সালে আইএসসি এবং ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে অধ্যায়নকালেই তোফায়েল আহমেদের সাংগঠনিক প্রতিভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিকাশ ঘটে। ১৯৬২ সালে তিনি বিপুল ভোটে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি অর্জনের পর তাঁর নেতৃত্বের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখার পর, ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে তিনি তৎকালীন ইকবাল হলের ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর, ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মহাসময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন ছাত্রসমাজকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক অপরাজেয় শক্তিতে রূপান্তরিত করেন। তোফায়েল আহমেদ ও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস যেন একই সুতোয় গাঁথা। তাঁর রাজনীতির প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল ১৯৫৭ সালে, যখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ভোলা সরকারি কলেজ মাঠে এক উপনির্বাচনের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও তৎকালীন তরুণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা তাঁর কিশোর মনে গভীর রেখাপাত করে। সেদিনই তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, রাজনীতি করলে এই নেতার রাজনীতিই করবেন। সেই থেকে শুরু করে বাঙালির মুক্তিসনদ ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে তিনি ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করতে অনন্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৬ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তারের পর জুনের ঐতিহাসিক ছয় দফার হরতালে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বকে মুগ্ধ করেছিল। ১৯৬৮ সালের স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের দমনপীড়নের মুখে তিনি কারাবরণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে প্রদীপ্ত অধ্যায়টি রচিত হয় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন ফাঁসি দেয়ার চক্রান্ত চলছিল, তখন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ), ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) ও ডাকসুর সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের ডাক দেন। তাঁরই অনলবর্ষী নেতৃত্ব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তীব্র ছাত্র আন্দোলন ও অবিচল গণলড়াইয়ের মুখে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদই প্রথম শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে বাঙালি জাতির আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে সুনির্দিষ্ট রূপ দেন। ছাত্ররাজনীতির এই বিপুল জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন, যা তাঁকে তৎকালীন পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের তালিকায় স্থান করে দেয়। এর ঠিক আগে, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর উপদ্বুত শাহবাজপুর (ভোলা) ও উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্গত মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তাঁর অকুতোভয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন তৎপরতা মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান চিরস্থায়ী করে দেয়। স্বাধীনতার পর, ১৯৭৫ সালে একক জাতীয় দল ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) গঠিত হলে তোফায়েল আহমেদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন। একই সাথে বাকশালের অন্যতম প্রধান অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় যুব লীগ’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেশের যুব সমাজকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে সংগঠিত করার গুরুদায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামে তাঁর রণকৌশল, বীরত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল এক চিরন্তন বিস্ময়। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বীরত্বপূর্ণ মুজিব বাহিনীর (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সেস – বিএলএফ) অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের অন্যতম। এর পাশাপাশি, যুদ্ধের অন্যতম কৌশলগত ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘১০ নম্বর সেক্টর’ (নৌ-কমান্ডো) গঠনে এবং শত্রুপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া ঐতিহাসিক ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর মতো জলযুদ্ধের নেপথ্য রূপকার হিসেবে তাঁর প্রাজ্ঞ রণকৌশল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। একই সাথে প্রবাসী সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের কাছে বাঙালির ন্যায্য অধিকারের দাবি ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তিনি অনন্য ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের পর, ১৯৭২ সালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) গুরুদায়িত্ব লাভ করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রির নির্মমতম ট্র্যাজেডির পর যখন দেশের রাজনৈতিক আকাশ ঘন অন্ধকারে ছেয়ে যায়, তখন নেমে আসে তাঁর ওপর অমানুষিক রাষ্ট্রীয় নির্যাতন। সামরিক জান্তার শাসনামলে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হলেও তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ, সততা ও বঙ্গবন্ধুর চেতনার প্রশ্নে একচুলও আপস করেননি। পরবর্তীতে যখন আওয়ামী লীগ চরম নেতৃত্বসংকট ও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তৃণমূল পর্যায়ে দলকে টিকিয়ে রাখতে এবং ১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, নীতি নির্ধারণ ও শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করতে তিনি অন্যতম জ্যেষ্ঠ অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে তিনি দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুদীর্ঘকাল অবদান করেছিলেন। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসের এক কিংবদন্তি পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নিজ জন্মভূমি ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন আসন থেকে তিনি মোট ৯ বার বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। দেশের প্রতিটি জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে সংসদে তাঁর উত্থাপিত জোরালো, যুক্তিপূর্ণ ও দালিলিক উপাত্ত সমৃদ্ধ বক্তব্য সমগ্র জাতিকে দিকনির্দেশনা দিত। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সফল, দূরদর্শী ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের মেয়াদে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁরই দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাংলাদেশের ‘জিএসপি সুবিধা’ নিশ্চিতকরণ এবং মার্কিন বাজারে কোটা সুবিধা সম্প্রসারণে তাঁর যুগান্তকারী অর্থনৈতিক কূটনীতি দেশের অর্থনীতির ভিতকে বিশ্বমঞ্চে মজবুত করেছিল। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা আদায়ে তাঁর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। ভোলার মেঠোপথ থেকে উঠে এসে ঢাকার রাজপথ, উত্তাল গণআন্দোলন আর সংসদের মাইক কাঁপানো সেই চিরপরিচিত প্রাজ্ঞ কণ্ঠটি আজ চিরতরে নীরব হয়ে গেল! দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার ‘তোফায়েল ভাই’। তাঁর এই চিরবিদায় দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর ও অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। একটি গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান হলো সত্য, কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে তোফায়েল আহমেদের নাম কখনো মুছে যাবার নয়। বাংলাদেশের ইতিহাস যতকাল থাকবে, ততকাল তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে, তাঁর দেয়া অমর উপাধিতে এবং লাল-সবুজের পতাকায়। এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা নিবেদন করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, ভোলার আপামর জনতা ও দেশ-বিদেশে থাকা লাখো অনুসারীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ভালো থাকবেন ওপারে, হে ইতিহাসের মহান সারথি। স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র আপনাকে চিরকাল পরম শ্রদ্ধায় বুকে ধারণ করে রাখবে। 📌 বাহাউদ্দিন গোলাপ, সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

