নাজিরপুরে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত
আমাদেরবরিশাল.কম
৮ June ২০২৬ Monday ৮:২৭:৪৪ PM
নাজিরপুর ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্যগুদামের (এলএসডি) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কিনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ চাষীদের। এতে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা।
কৃষকদের দাবি, কষ্টার্জিত ভালো মানের ধান নিয়ে গুদামে গেলেও আর্দ্রতা বা অন্য নানা অজুহাতে তা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অথচ ফড়িয়া, চাতাল ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের এবং অঙ্কুরিত ধানও গুদামে অনায়াসে ঢুকছে। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ও লেবার সর্দারদের যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
সরেজমিনে শ্রীরামকাঠী খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে হাজার হাজার বস্তা ধান স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, অন্য সাধারণ চাষীরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারেন, সে জন্য পরিকল্পিতভাবে গুদামের সামনে এই জটলা তৈরি করে রাখা হয়েছে। এমনকি অনেক সাধারণ কৃষকের কৃষি কার্ড বিভিন্ন কৌশলে সংগ্রহ করে সেগুলো ব্যবহার করেই সিন্ডিকেট চক্র ধান সরবরাহ করছে।
উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার কৃষক পরিতোষ হালদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এখন এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে বিক্রি করতে গেলে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যায় না। আমরা কষ্ট করে ধান নিয়ে গোডাউনে গেলে ভিজা, চিটা, নানা অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালী ও দলীয় লোক যারা ঘুষ দিতে পারে, তাদের নিম্নমানের ধান ঠিকই গুদামজাত করা হচ্ছে। এ নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে এলাকায় হুমকির মুখে পড়তে হয়।’
একই উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারী বলেন, ‘আমি ২৫ মণ ধান নিয়ে গোডাউনে গিয়েছিলাম। কিন্তু ১০২ নম্বর সিরিয়াল বলে আমাকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোডাউনের সামনে ক্ষমতাশালীদের হাজার হাজার বস্তা ধান স্তূপ করে রাখা। যার ফলে আমাদের ধান ভেতরে ঢুকাতে লম্বা সিরিয়াল দেখানো হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পেরে আমরা কম দামে বাইরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। দালালরা অফিসের লোকদের সাথে হাত মিলিয়ে কৃষকদের কার্ড দিয়ে এই বাণিজ্য করছে।’
চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় মণ প্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা (কেজি প্রতি ৩৬ টাকা) মূল্যে ধান ক্রয় করছে সরকার। এ বছর উপজেলাটিতে সর্বমোট ১ হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সব ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ ধান নিয়ে আসলে কাউকেই ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে কিছু চটের বস্তার সংকট থাকায় সাময়িক একটু সমস্যা হচ্ছে।’
গুদামের বাইরের স্তূপ ও কৃষি কার্ড জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোডাউনের বাইরে কী হয়, কে কীভাবে ধান কেনে বা বিক্রি করে তা আমার জানার কথা নয়। এখানে নিয়ম অনুযায়ী কৃষি কার্ড নিয়ে যে আসে, তার ধানই আমরা রাখি। তিনি কার কার্ড বা কার ধান নিয়ে এসেছেন, সেটা যাচাই করা আমাদের কাজ না।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।