![]() বাকেরগঞ্জে মা ঘরছাড়া বাবা কবরে, দাদির ভিক্ষাই সম্বল দুই ভাইয়ের
৯ June ২০২৬ Tuesday ১:৪৯:০৮ PM
বাকেরগঞ্জ ((বরিশাল) প্রতিনিধি: ![]() বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামের দুই শিশু দ্বীন ইসলাম মেহেদী (১০) ও মাইনুল ইসলাম (৮)। ঘরের সামনে একটি কবরের পাশে খেলেই কাটছে তাদের সময়। পাশেই ভাঙাচোরা ঘরের চুলায় ভাত-ডাল রান্না করছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ রিজিয়া বেগম। কথা বলে জানা যায়, বৃদ্ধ রিজিয়া বেগম শিশু দুটির দাদি। আর যেই কবরের পাশে শিশু দুটি খেলা করছে সেটা তাদের বাবার কবর। ঘরে দেখা মেলেনি তাদের মায়ের। রিজিয়া বেগম বলেন, পাঁচ বছর আগে সংসার ছেড়ে অন্যত্র চলে যান তাদের মা আসমা বেগম। অবুঝ দুই সন্তানকে রেখে যাওয়ার পর আর কখনো তাদের খোঁজ নেননি তিনি। মায়ের অনুপস্থিতিতে প্রতিবন্ধী বাবা নাসির হাওলাদারই ছিলেন শিশু দুটির একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু তিন বছর আগে বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হলে নেমে আসে আরও ঘোর অন্ধকার। এরপর থেকে দুই শিশুর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাদের বৃদ্ধ দাদি রিজিয়া বেগম। বয়সের ভার আর শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কিংবা হাটবাজারে সাহায্য চেয়ে কোনোভাবে নাতিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। তবে দিন যত যাচ্ছে, সেই লড়াইও ততো কঠিন হয়ে উঠছে। এ যেন দুটি জীবনের এক নিঃশব্দ সংগ্রামের গল্প। যে বয়সে শিশুদের বই-খাতা আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই তারা লড়ছে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। অসহায় কণ্ঠে রিজিয়া বেগমের বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, নাতিদের আগলে রাখবো। কিন্তু বয়স হয়েছে, শরীরও আর সায় দেয় না। ওদের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে খুব ভয় লাগে। থাকার ঘরটাও ভেঙে পড়েছে। কেউ যদি ঘরটা মেরামত করে দিত, আর শিশু দুটির দায়িত্ব নিত, তাহলে একটু নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।’ এরমধ্যে বড়জন মেহেদী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তারা দুই ভাই স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়লেও চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের পড়াশোনা এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এছাড়া তাদের প্রতিদিনের খাবারের নিশ্চয়তাও থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই ভাই প্রায়ই তাদের বাবার কবরের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। কখনো খেলতে খেলতে সেখানে চলে যায়, কখনো দীর্ঘ সময় নীরবে তাকিয়ে থাকে। তাদের সেই নীরবতা যেন এক অপ্রকাশিত প্রত্যাশার গল্প বলে, হয়তো তাদের বাবা আবার ফিরে আসবেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন বলেন, অসহায় বৃদ্ধার পক্ষে এই পরিবারের দায়িত্ব বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা না পেলে শিশু দুটির শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস. এম. কাইয়ুম খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে যখন যে ধরনের সহযোগিতা আসে তাদের দেওয়া হয়। এছাড়া শিশু দুটির দাদি বৃদ্ধ রিজিয়া বেগমকে বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতেও তাদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। শিশু দুটির অবস্থার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে তাদের জন্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

