চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়ক দখল: দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম ট্রাফিক পুলিশ
আমাদেরবরিশাল.কম
১৭ June ২০২৬ Wednesday ১১:০০:০৪ PM
নগর প্রতিনিধি:
বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকপাড় এলাকা থেকে ভাসমান হকারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হলেও চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়ক দখল করে চলা বাণিজ্য এখনো বন্ধ করা যায়নি। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকেই বাজারসংলগ্ন মহাসড়কের একাংশ দখল করে বসে পড়ছেন প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী ও হকার। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা অনেক সময় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়কের একপাশে মাছ, মুরগি, সবজি ও নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। ক্রেতাদের ভিড় এবং সড়কের ওপর পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে রাখার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাজীপাড়া থেকে সিএন্ডবি পুল পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চৌমাথা পুলিশ বক্সের ট্রাফিক সদস্য ও সার্জেন্টদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মুনীর হোসেন বলেন, “এতদিন হকাররা লেকপাড়ে অবস্থান করত। সেখান থেকে উচ্ছেদের পর তারা বাজারের সামনে এসে বসছে। ফলে নতুন করে যানজটের সমস্যা তৈরি হয়েছে। মহাসড়কের পাশেই বড় বাজার থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।” সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে ভাসমান হকার উচ্ছেদ এবং সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন, যা নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চৌমাথা লেকপাড়ের হকারদের উচ্ছেদ করা হলেও এখনো তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের ভেতরে স্থায়ী দোকান থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী লোক ভাড়া করে মহাসড়কের ওপর পণ্য বিক্রি করাচ্ছেন। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও সবজি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর সঙ্গে লেকপাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া কিছু ভাসমান হকারও যুক্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী দাবি করেন, কিছু বিএনপি নেতা ও ইজারাদারের যোগসাজশে বাজারের সামনের এই অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ দিনকে দিন বড়ো হচ্ছে। রীতিমতো মহাসড়কের অনেকাংশে দড়ি টেনে আলাদা করা হয়েছে। এদের কারণে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল বা অন্যান্য খরচ না থাকায় ফুটপাত ও সড়কে বসা ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। এতে বাজারের ভেতরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাজারের সামনের এই দখল বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তারা মহাসড়ক দখলমুক্ত করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেল জানান, বিষয়টি প্রশাসকের নজরে আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এসে চৌমাথা এলাকার সড়ক দখল, যানজট এবং হকার পুনর্বাসন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। নগরবাসীর মতে, চৌমাথা লেকপাড় দখলমুক্ত করার পর সৌন্দর্য ফিরতে শুরু করেছে। এখন মহাসড়ক দখলমুক্ত করে পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে একদিকে যেমন যানজট কমবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।