" />
AmaderBarisal.com Logo

খালে ভেসে যাওয়া বৃদ্ধাকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে পিরোজপুরের শিশু মারিয়া


আমাদেরবরিশাল.কম

১৮ June ২০২৬ Thursday ১:৪১:০২ PM

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভারানি খালে ভেসে যাচ্ছিলেন বিমলা শিকদার নামের এক বৃদ্ধা। এ দৃশ্য চোখে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়ার। ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ১২ বছর বয়সি মারিয়া। এ ঘটনার পর প্রশংসায় ভাসছে ছোট্ট মারিয়া। 

বুধবার (১৭ জুন) বিকালে পিরোজপুর পৌরসভার শেখ পাড়া (বসন্তপুল) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। 

জানা যায়, পিরোজপুর শহরের শেখপাড়া বসন্তপুল এলাকার ভারানি খালে ভেসে আসতে দেখা যায় প্রায় ৭৫ বছর বয়সি বিমলা শিকদারকে। পরে বসন্তপুল এলাকার মারিয়া তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। মারিয়া ও তার পরিবার বৃদ্ধার ভেজা কাপড় পরিবর্তন করে খাবারের ব্যবস্থা করে এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা করে। এ ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষজন ঘটনাস্থলে ভিড় করে।

তবে বৃদ্ধা নিজের বাড়ির ঠিকানা বা পরিবারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে না পারায় মারিয়া ও তার পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে। পরে বিষয়টি পিরোজপুরের স্থানীয় গণমাধ্যম স্বাধীন-২৪ এবং পিরোজপুর নিউজের সরাসরি সম্প্রচারে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধার পরিচয় অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেন এবং প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ, জেলা ছাত্রদল ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিমলা শিকদারকে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, বৃদ্ধার নাম বিমলা শিকদার (৭৫)। তিনি পিরোজপুর শহরের পালপাড়া এলাকার মৃত রতন শিকদারের মা।

খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন বৃদ্ধার নাতি জয় (১৮) ও তার মা। জয় জানান, তার দাদির এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তার বাবা মারা গেছেন এবং ফুফি মঠবাড়িয়ায় থাকেন। বর্তমানে দাদি তাদের সঙ্গেই থাকেন।

জয় বলেন, আমার মা অসুস্থ। দাদি প্রায়ই বাসা থেকে একা বের হয়ে যান। বুধবার সকালেও তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাননি। একপর্যায়ে খবর পাই, তিনি হাসপাতালে আছেন। এখানে এসে জানতে পারি, ছাত্রদল তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা তাকে বাসায় নিয়ে যাব।

পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসিফ শেখ বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়েরা আমাদের ফোন দেয়, আমরা ফোন পেয়ে দ্রুত চলে আসি। ছাত্রদলের সহযোগিতায় বিমলাকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিশু মারিয়া বলেন, আমি হঠাৎ করে খালের দিকে তাকিয়ে দেখি একজন মানুষ পড়ে আছে। পরে আমি খালে নেমে তার মাথাটা তুলে ধরি। এরপর তাকে রাস্তার উপরে তুলে আনি। আশপাশের মানুষ দেখে আমার মাকে ডাকে। আমার মা তার কাছে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে, তার ছেলে মেয়ের নাম কিন্তু তিনি কিছু বলতে পারেননি। 

মারিয়ার মা বলেন, আমার মেয়ে তাকে খাল থেকে তুলে এনেছে। আমি অনেকবার তার পরিচয় জানার চেষ্টা করেছি। তার সন্তান এবং তার ঠিকানা কোথায় অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু তিনি কিছু বলতে পারেননি। যদি তার কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকে, তাহলে আমি তাকে আমার কাছে রেখে দিতাম এবং তার যত্ন করতাম।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।