![]() ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প:লাল কালির নম্বরেই বছরের পর বছর পার
২০ June ২০২৬ Saturday ২:৩৫:১৪ PM
বিশেষ প্রতিনিধি: ![]() চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল ১০ বছর আগে। হয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ নকশা প্রণয়ন। কতটুকু জমি লাগবে, তা ঠিক করার পর বাড়িঘর ও স্থাপনায় লাল চিহ্ন আর নম্বরও দিয়েছিল রেল মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই থেমে আছে সব। রেললাইনের মুখ দেখেনি বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। অথচ কথা ছিল ২০২৯ সালের মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত যাবে ট্রেন। মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা বলেছেন যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। কয়েকটি জেলাকে কীভাবে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে, সে কথাও বলেছেন তিনি। তবে পুরো আলোচনায় একবারও উচ্চারণ করেননি দক্ষিণাঞ্চলের কোনো জেলার নাম। এদিকে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, টাকার অভাবে আটকে আছে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প। দাতা সংস্থা কিংবা ঋণ-অনুদান মিললেই কাজ শুরু হবে। ২০১৪ সালে প্রথম শুরু হয় ঢাকা-কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের আলোচনা। ২০১৬ সালের ৩ মে একনেকের বৈঠকে দেওয়া হয় রেললাইন স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন। শুরুতেই প্রকল্পে আগ্রহ দেখায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি রেল লিমিটেড। রেললাইন করতে সরকারের কাছে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন তারা। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করেন তারা। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন রেলওয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কাজী রফিকুল আলম এবং ডিপি রেল লিমিটেড ইউকের পক্ষে প্রধান নির্বাহী ইয়ান এস ডার্বিশায়ার। তখন ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে লাইন স্থাপন সম্পন্ন হওয়ার কথাও ছিল ওই স্মারকে। এরপর পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসায় পরিবর্তন আসে প্রকল্পে। ২০১৭ সালে এসে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, যেহেতু ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত যাচ্ছে রেললাইন। তাই বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন ভাঙ্গা থেকে শুরু করাটাই যৌক্তিক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় জমির আয়তন নির্ধারণ এবং নকশা প্রণয়নের জন্য ২০১৮ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয় সরকার। কথা ছিল ২০২০ সালের মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন তারা। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা কারণ দেখিয়ে চার বছর বেশি সময় নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জমা হওয়া প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪১ হাজার ৭৯৭ কোটি থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে বলে জানান তারা। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। অধিগ্রহণ প্রস্তাবিত এলাকায় থাকা ভবন-প্রতিষ্ঠানে লাল চিহ্ন আর নম্বরও দেন রেলওয়ের লোকজন। লাইনের দুপাশে থাকা বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয় ওই লাল দাগ। লাল দাগ দেওয়া জমি অধিগ্রহণ করা হবে জানিয়ে তা বিক্রি কিংবা জমিতে থাকা স্থাপনা সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণে নিষেধ করা হয় মালিকদের। ২০১৮ সালের শেষদিকে এসব কাজ করেন তারা। এখানেই আটকে যায় প্রস্তাবিত ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইনের দুপাশে থাকা কয়েক হাজার মানুষের ভাগ্য। ৮ বছর আগে ওই লাল চিহ্ন দেওয়ার পর থেকে আর এগোয়নি রেললাইন স্থাপনের কাজ। মাঝ থেকে বিপদে পড়েছেন প্রস্তাবিত রেললাইনের দুপাশে লাল দাগের আওতায় থাকা মানুষ। বরিশাল নগরীর টিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা সুলতান খান বলেন, আট বছর আগে আমার একতলা ভবনের দেওয়ালে লাল রং দিয়ে নম্বর লিখে গেছেন রেলের লোকেরা। বলেছিলেন, ভবন সংস্কার, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা জমি বিক্রি করা যাবে না। অথচ শেষ বয়সে এসে আমি চাইছি জমি ও বাড়ি বিক্রি করে ঢাকায় ছেলে-মেয়েদের কাছে চলে যেতে। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, রেললাইন হলে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে চট্টগ্রাম-মোংলার চেয়ে অনেক কম সময়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহণ হবে ঢাকায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, এটা যেহেতু একটি বিশাল বাজেটের মেগা প্রকল্প, তাই অর্থের সংস্থান না হওয়া পর্যন্ত কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি দাতা সংস্থা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়া যায় কি না। অর্থের জোগাড় হলেই ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করব। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

