" />
AmaderBarisal.com Logo

সাগরে ইলিশের আকাল, খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা


আমাদেরবরিশাল.কম

২০ June ২০২৬ Saturday ৯:১১:১৭ PM

পাথরঘাটা ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। দীর্ঘ বিরতিতে মাছের নিরাপদ প্রজনন শেষে সাগরে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে এবং জালে প্রচুর মাছ মিলবে- এমন আশায় দলে দলে সাগরে রওনা হন জেলেরা। তবে নিষেধাজ্ঞার পর আট দিনেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এতে হতাশ হয়ে প্রায় খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে অধিকাংশ জেলে নৌকাকে।

জেলেরা বলছেন, একটি বড় ট্রলার নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গেলে সেখানে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন থাকতে হয়। প্রত্যেক  ট্রলারে ১৫ থেকে ২৫ জন মাঝি-মাল্লা থাকেন।এ সময় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য রসদ বাবদ খরচ হয় তিন  থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। একটি ট্রিপ লাভজনক করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি প্রয়োজন। কিন্তু এবার অনেক ট্রলার খরচের টাকাও তুলতে পারেনি। 

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ট্রলার ভিড়লেও নেই চিরচেনা কোলাহল।মাছ নামানোর ব্যস্ততা, আড়তদারদের হাঁকডাক কিংবা শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য অনেকটাই অনুপস্থিত। কারণ অধিকাংশ ট্রলারই ঘাটে ফিরেছে ট্রলারভর্তি ইলিশ নয়, হতাশা নিয়ে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও ট্রলার মালিকদের দাবি, সাগরে মাছের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু তাদের জীবিকাই নয়, দেশের মাছভিত্তিক  অর্থনীতিও হুমকিতে পড়বে। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তারা।

এদিকে, পাথরঘাটা খুচরা মাছ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ধরনের মাছের প্রত্যাশিত দাম।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,
৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর বড় আশা নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। পাঁচ থেকে সাত দিন সাগরে থেকেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাইনি। বাধ্য হয়ে খালি হাতেই ফিরছি। যে ট্রিপে আগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতাম, এবার সেখানে খরচের টাকাও ওঠেনি।’

এই ট্রলারের মালিক আরো বলেন, ‘যখন আমরা এক ট্রিপে ১০-১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করি, তখন সবাই তা শুনতে পায়। কিন্তু টানা তিন-চারটি ট্রিপ লোকসান দিলে সেই কষ্টের কথা কেউ শোনে না। ভেবেছিলাম আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু উল্টো আরো  লোকসানের মুখে পড়ছি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হয়তো এই পেশা ছাড়তে হবে।’

এফবি সিফাত ট্রলারের মালিক মো. মুজিবুর রহমান কালু বলেন, ‘মাছ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই দাদন ও ঋণের বোঝা নিয়ে দিশাহারা।’ তিনি বলেন, গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি, নিষেধাজ্ঞাকালে কিছু অসাধু ট্রলার মালিক ও জেলে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন। 

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা কর্মহীন সময় পার করেছেন। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। আশা ছিল নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে ভালো মাছ পাবেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম, অথচ সাগরে মাছের দেখা মিলছে না।’

পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক বলেন, ‘জেলেরা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম মাছ পাচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরাও ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞার পর মাছের প্রাচুর্য বাড়বে। তবে এটি সাময়িক পরিস্থিতি হতে পারে। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাগরে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি বাড়বে এবং জেলেরা ভালো আহরণ করতে পারবেন।’



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।