![]() পায়রা নদীর গ্রাসে শেষ পটুয়াখালীর হাজারো মানুষের স্বপ্ন
২২ June ২০২৬ Monday ১২:৩৪:৩৮ PM
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ![]() পটুয়াখালীর পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে দুমকি উপজেলার ৪নং আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাজারসহ সহাস্রাধিক বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পায়রা নদীর গ্রাস থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি নিয়ে অন্যথায় চলে যাচ্ছেন যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী ওখানকার বাসিন্দারা । বেড়িবাঁধ না থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন কয়েকশত পরিবার। ৮০ বছরের বৃদ্ধা মো. জলিল উদ্দিন ফকির নদীর দিকে তাকিয়ে শুধু কাঁদেন। তাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, কিছুদিন আগেও আমাদের সুন্দর একটা ঘড় ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল, গোয়ালে ছিল গরু, খেত ভরা ধান ছিল কিন্তু আজ সেগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। তাই শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে ঘর ভেঙে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছে এই ৮০ বছরের বৃদ্ধা। পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার ৪নং আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পায়রা নদীর অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ভেঙে বাহেরচর ও আঙ্গারিয়ার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতি বছর পানিবন্দি অবস্থায় থাকে। ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, গাছপালা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এসব গ্রামের শত শত পরিবার৷ সেইসাথে নদীগর্ভে চলে গেছে এখানকার হাজারো মানুষের সাজানো স্বপ্ন। ইতোমধ্য অনেকের চিরতরে মুছে গেছে অনেক ঘড়-বাড়ি। নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ ঘর বাড়ি স্থানান্তর করে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অন্যত্র আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। আগ্রাসী নদী ভাঙনের দিশেহারা হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি কবর হারানো মানুষগুলো অসহায় হয়ে আশ্রয়ের জন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। তারা এখন ত্রাণ চায় না চায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ। তাই আশ্বাস নয় স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। আলেয়া বেগম বলেন, আমি ২০ বছর আগে যখন এখানে আমার শ্বশুর বাড়ি এসেছি তখন দেখেছি তাদের সাজানো সংসার ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে পায়রা নদীর ভাঙনের সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন নিঃস্ব হয়ে আছি আমরা। আমরা এখন স্থায়ী সমাধান চাই। কামাল হোসেন বলেন, এখন যদি ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কোনো কিছু না করা হয় তাহলে আগামী ৪ বছরের মধ্যে আমাদের যে ভিতরে ঘরবাড়িগুলো আছে সেগুলো নদীতে তলিয়ে যাবে। পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, বর্তমানে ভাঙন রোধে আমরা অস্থায়ী ভাবে কাজ করবো। তবে খুব দ্রুতই স্থায়ী সমাধানের কথাও জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা। পটুয়াখালীতে মোট ১হাজার তিনশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ কিমি. এবং ৬ কিমি. মিটার বেড়িবাঁধ পুরো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

