![]() ভাঙনে বিপর্যস্ত ডুবি-কাটাখালী, এক দশকেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান
২৭ June ২০২৬ Saturday ৪:৪৭:৫৫ PM
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: ![]() পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি-কাটাখালী বাণিজ্যিক খালের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ডুবি থেকে কাটাখালীর একমাত্র প্রধান সড়ক এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুল বা সাঁকো। প্রায় এক দশক ধরে চলমান এ ভাঙনে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খালের তীব্র ভাঙনে ইতিমধ্যে কয়েক শ একর ফসলি জমি, বাগানবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে খালের তীরে অবস্থিত একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চরম ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং বহু বসতবাড়ি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে খালের ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, ডুবি দক্ষিণপাড় থেকে কাটাখালী পর্যন্ত যাওয়ার একমাত্র সড়কের অধিকাংশই খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়ে সড়কের পাশে ঝুলে আছে একাধিক সাঁকো। ভেঙে পড়েছে নারকেল ও সুপারিগাছ। কোথাও কোথাও ভাঙন এসে পৌঁছেছে বসতঘরের সিঁড়ি পর্যন্ত। ভাঙনের ভয়ে কেউ কেউ ইতিমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে ডুবি আলিম মাদ্রাসা, ডুবি বাইতুল আমান জামে মসজিদ ও দক্ষিণ ডুবি রেজাউল করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজকের পত্রিকা ডুবি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি, কিন্তু চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা নেই। সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তাহলে খাল দিয়েই চলাফেরা করতে হবে। আমাদের রক্ষা করুন।’ দক্ষিণ ডুবি রেজাউল করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফাইজুল হক বলেন, ‘খালের ভাঙনে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের সামনেও প্রতিনিয়ত ভাঙছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। দ্রুত ভাঙনরোধ ও রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, ডুবি-কাটাখালী খালটি কালীগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিলেছে। গত এক যুগে ভয়াবহ ভাঙনে কয়েক শ একর ফসলি জমি, রাস্তা ও পুল খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষের বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ভাঙছে। তিনি দ্রুত খালের পাশে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ এবং নতুন করে রাস্তা ও পুল নির্মাণের দাবি জানান। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান বলেন, ডুবি থেকে কাটাখালী পর্যন্ত সড়কটি প্রায় পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত মানুষের জমি ও বসতবাড়ি ভাঙছে। তিনি বলেন, ভাঙনরোধ এবং নতুন সড়ক নির্মাণে একটি বৃহৎ সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

