" />
AmaderBarisal.com Logo

টানা বর্ষণে বাউফলে জনজীবন বিপর্যস্ততলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের, দুর্ভোগে মানুষ


আমাদেরবরিশাল.কম

৯ July ২০২৬ Thursday ১:৪৩:৪১ PM

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:


মৌসুমি নি¤œচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত চারদিন ধরে পটুয়াখালীতে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণ হয়েছে। জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা জুড়ে সর্বমোট ৫৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে বাউফল উপজেলাতেও। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অতি ভারী বর্ষণে বাউফলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
​সরেজমিনে বাউফল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শহর ঘুরে দেখা গেছে, একটানা বৃষ্টিতে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বাউফল পৌরসভার কয়েকটি নিচু এলাকা এবং উপজেলার কালিশুরী, বগা, কালাইয়া, ধুলিয়া, দাসপাড়া, চন্দ্রদ্বীপ ও কনকদিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ঘরের বাইরে পানি জমে থাকায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। তীব্র বৃষ্টির কারণে ঘরের বাইরে লোকজনের চলাচল ছিল সীমিত, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
​উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক চাষি জাল দিয়ে পুকুর ও ঘের আটকে রাখার চেষ্টা করছেন।
উপজেলার মৃত্তিকা এ্যাগ্রোর মালিক এম এ হান্নান জানান, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে তার কয়েকটি পুকুরের পানি প্রায় উপচে পড়ার মতন। তিনি পুকুরের চারপাশে নেটজাল দিয়ে আটকে দিয়েছেন। এই বৃষ্টি যদি ধারাবাহিক ভাবে আরো কয়েকদিন থাকে তাহলে পুকুরে মাছ রাখা দায় হয়ে যাবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা এ এম পারভেজ জানিয়েছেন, মাছের ঘের কিংবা পুকুর তলিয়ে মাছ চাষিরা ক্ষতির মুখে এখনো পরেনি। তবে তাদের বলেছি, যেহেতু বর্ষাকাল, নেট কিনে পুকুর ও ঘেরের চারপাশে উঁচু করে আটকে দিতে।
ভারী বর্ষণে বাউফলের নিচু এলাকার আমন ধানের বীজতলা ও শরৎকালীন সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত এই পানি নেমে না যায়, তবে বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে আগামী আমন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
শৌলা চরের কৃষক ওলি উল্লাহ্ বলেন, তিনি ১২শতক জমিকে আমন বীজতলা করেছেন। টানা বৃষ্টিতে তার সবটুকুই তলিয়ে গেছে। এভাবে সপ্তাহ খানেক বৃষ্টি থাকলে বীজের গোড়া পচে যাবে।
​উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন বলেন, উপজেলা আউশ আবাদ হয়েছে ২হাজার ৬০৮ হেক্টর ও আমন বীজতলা ৫৮০ হেক্টর। এর অধিকাংশই পানিতে ডুবেছে। তবে ক্ষতি হয়নি। খেত থেকে যতটা সম্ভব পানি দ্রুত নিস্কাশনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
​পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর এই প্রভাব চলতি মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত থাকবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।