![]() আগৈলঝাড়ায় থানা ঘেরাও, পুলিশ-স্বজন সংঘর্ষে আহত ৬
৯ July ২০২৬ Thursday ৮:০৭:৫৯ PM
আগৈলঝাড়া ((বরিশাল) প্রতিনিধি: ![]() বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রিয়াজ ফকির নামে এক যুবককে রাস্তা থেকে তুলে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগে থানা ঘেরাও করে স্বজনরা। একপর্যায়ে পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন গুরুতর আহত হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে আগৈলঝাড়া থানা হাজতে রিয়াজ ফকিরকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। রিয়াজ ফকির উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের ফকির বাড়ির সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুক, সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল হালিম এবং কনস্টেবল ফরহাদ, প্রতিপক্ষের রিয়াজ ফকিরের দাদি মমতাজ বেগম, বড় বোন শারমিন এবং চাচা কাঞ্চন ফকির। এর মধ্যে লাঠিচার্জ করে বৃদ্ধা মমতাজ বেগমের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক জানান, বিকেলে হঠাৎ করে ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ থানার গেটের সামনে এসে হামলা ও ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের আহত শারমিন জানান, রিয়াজকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের কারণ জানার জন্য থানায় যান তারা। এসময় থানার বাইরে ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করলে পুলিশ অতর্কিতভাবে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। লাঠির আঘাতে তাদের চাচা কাঞ্চন ফকির জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির জানান, রিয়াজ মোবাইল ঠিক করার জন্য বুধবার বিকেলে তার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বের হয়। হেলিপ্যাড এলাকায় আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ তার কাছে মাদক আছে বলে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে খবর দিলে আমি রাতে থানায় গিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলি। ছেলে জানিয়েছে, তার কাছে কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য না পেলেও জোর করে থানায় নিয়ে আসছে। সিদ্দিক ফকির আরও বলেন, থানায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বললেও আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে রাতভর রিয়াজকে নির্মমভাবে পিটিয়ে এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করে। তিনি বলেন, রাত আড়াইটার দিকে থানার পরিদর্শকসহ (তদন্ত) পুলিশের পাঁচজন সদস্য আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে। আমাদের জানানো হয়, ছেলে গারদের শিকের সঙ্গে মাথা ঠুকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্ত আমরা যাইনি। সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, সে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। সিদ্দিক ফকির প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার ছেলে যদি গারদের মধ্যে মাথাঠুকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তাহলে দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন আসলো কোথা থেকে? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করছি। আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক জানান, রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা আছে। তবে সে দুটি মামলায় জামিনে রয়েছে। তাকে পার্লার থেকে স্বর্ণ চুরির মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ফুল্লশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, রিয়াজকে ঢুকানোর পর পরই রাত ৯টায় গারদের শিকের সঙ্গে মাথা ঠুকতে ঠুকতে জ্ঞান হারিফে ফেলে। তাকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি। পরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলেও তারা থানায় আসেনি। পুলিশ পরিদর্শক বলেন, রাতে রিয়াজকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

