![]() বাউফলে ইউটিউবে মাদ্রাসার প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস
১১ July ২০২৬ Saturday ৪:৩৮:২০ PM
অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ![]() পটুয়াখালীর বাউফলে চলতি দাখিল (দশম শ্রেণি) প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরুর আগেই ইউটিউবজুড়ে বিভিন্ন নামি প্রকাশনীর লোগো ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়ছে প্রশ্নপত্র ও বিশেষ সাজেশনের ভিডিও। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ‘আল ইমতেহান’, ‘লেকচার’ ও ‘দারসুন’সহ বিভিন্ন পরিচিত প্রকাশনীর লোগো সংবলিত প্রশ্ন পরীক্ষার আগের দিনই চলে আসছে ইন্টারনেটে। পরের দিনের প্রশ্নপত্র আগের দিন বিকেল বা রাত থেকেই ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিওতে দেওয়া প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে পাওয়া মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ারও প্রমাণ মিলেছে। এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এ তথ্যের অবিকল মিল পাওয়া গেছে। পরীক্ষার আগের দিন দুপুর বা বিকেল থেকেই ইউটিউবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নাম লিখে সার্চ করলে ‘Dakhil Online Madrasah’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ‘দাখিল দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা ২০২৬’-এর প্রশ্ন পাওয়া যায়। ওই ইউটিউব চ্যানেলে ইংরেজি, বাংলা, গনিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র সংবলিত ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। ভিডিওর থাম্বনেইলে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে- ‘১০০% গ্যারান্টি পাস নিশ্চিত’, ‘প্রশ্ন হুবহু কমন..!!’, কিংবা ‘পরীক্ষার আগের রাতেই দেখে নিন আসল প্রশ্ন’। সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে। বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের জুবায়ের নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পরিচিত দশম শ্রেণির এক পরীক্ষার্থীর জন্য প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নটি পরীক্ষার আগের দিন বিকেলে ওই ইউটিউব চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, ইউটিউবে দেওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হলের আসল প্রশ্নপত্রটি হুবহু এবং অবিকল মিলে গেছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের অপতৎপরতা শিক্ষার্থীদের মেধা ধ্বংস করে দিচ্ছে। দ্রুত এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পরীক্ষার আগের দিন এসব প্রশ্নপত্র ইউটিউব থেকে সহজেই পেয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে এই শর্টকাট পথের দিকে ঝুঁকছে। তারা রাতে এই প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে পরীক্ষা হলে গিয়ে অবিকল মিল পেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি ফাঁকিবাজ ও শর্টকাট নির্ভর মানসিকতা গড়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাউফলের এক মাদ্রাসা শিক্ষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পড়া বাদ দিয়ে পরীক্ষার আগের দিন অনেক শিক্ষার্থী মোবাইলে কথিত প্রশ্ন খোঁজে। যেহেতু হলের প্রশ্নের সঙ্গে এগুলো মিলেও যাচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রস্তুতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং মেধা ধ্বংসের এক নীরব সুনামি।’ সচেতন মহলের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট চক্র বা প্রকাশনী ব্যবসায়িক ফায়দা কিংবা ইউটিউব থেকে ভিউ-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পরীক্ষার অত্যন্ত গোপনীয় এই প্রশ্নপত্রগুলো আগেভাগে ফাঁস করছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। যদি সত্যিই কোনোভাবে পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়মিত ফাঁস হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম খান বলেন, ‘আমার বিষয়টি জানা নেই। আপনি সুনির্দিষ্ট করে তথ্য দিলে বা ওই ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দিলে আমরা সেটা যাচাই বাছাই করে দেখব। বিষয়টি সঠিক হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নুর নবী বলেন,‘আপনার কাছ থেকে শুনলামা মাত্র। নিয়ম হলো স্ব স্ব মাদ্রাসাগুলো নিজেরা প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। কিন্তু সেটি না করে তারা সমিতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট কিনে আনেন এবং সেগুলো দিয়ে পরীক্ষা নেয়। আমার ধারণা সমিতি থেকে প্রশ্নগুলো ইউটিউবারদের কাছে চলে যেতে পারে।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

