![]() দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
১৫ July ২০২৬ Wednesday ৪:৫৩:৫৩ PM
দশমিনা ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. রহমানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের যৌথা গ্রামের মৃত নুরু মোহাম্মদ মুন্সির স্ত্রী মোসা. সেতারা বেগমের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে সেতারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এরপর রোগীকে বরিশালে নেওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালে আসেন। রোগীর স্বজনদের দাবি, ভাড়া হিসেবে তিনি প্রথমে ৩ হাজার ৫০০ টাকা চান। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা না করে যাত্রা শুরু করেন। পথিমধ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জ এলাকায় রোগীর মৃত্যু হয়। পরে একই অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসেন স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, বাড়িতে পৌঁছে চালক সাত হাজার টাকা দাবি করেন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। নিহতের স্বজন মো. সুমন মুন্সি বলেন, ‘রোগীর অবস্থা গুরুতর থাকায় চালক যে ভাড়া চেয়েছিলেন, তা নিয়ে তখন আর আপত্তি করিনি। পরে জানতে পারি, দশমিনা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া মাত্র ২ হাজার টাকা। অথচ আমরা বরিশাল পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারিনি। এরপরও আমাদের কাছ থেকে জোর করে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করব।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি রোগী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দিই। বাকেরগঞ্জে পৌঁছানোর পর রোগীর মৃত্যু হলে মরদেহ নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি। আমি অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করিনি। তাঁরা নিজেরাই টাকা দিয়েছেন। পরে দেখি আমাকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হিসাবে ২ হাজার টাকা জমা দিয়েছি, বাকি টাকা আমার কাছে রয়েছে।’ এ সময় অতিরিক্ত অর্থ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে নিজের টাকা দিয়ে জ্বালানি কিনতে হয় এবং টোল দিতে হয়।’ দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দশমিনা থেকে পটুয়াখালীর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং বরিশাল পর্যন্ত ২ হাজার টাকা নির্ধারিত। এর বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মোহাম্মাদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির স্থান নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

