" />
AmaderBarisal.com Logo

সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিতে তলিয়েছে ফসলের মাঠ:দুশ্চিন্তায় পটুয়াখালীর কৃষক


আমাদেরবরিশাল.কম

১৫ July ২০২৬ Wednesday ৫:২৮:২৪ PM

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর দুমকিসহ জেলার উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। কোথাও কোথাও পানি নামতে শুরু করলেও ডুবে থাকা বীজতলা ও সবজি রক্ষা করা যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ৪৪৮ দশমিক ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার নিচু এলাকার প্রায় ২ হাজার ৮০৫ হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে আমনের বীজতলা ও সবজি খাতে।

দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামের কৃষক খলিল সিকদার বলেন, টানা বৃষ্টিতে তার আমনের বীজতলা কয়েকদিন পানির নিচে ছিল। এতে বীজতলা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের রাজাখালী এলাকার কৃষক আবদুল মজিদ হাওলাদার, কবির হাওলাদার ও হাবিবুর রহমান মৃধাসহ আরও অনেকে।

জেলার গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের কৃষক মো. হানিফ চৌকিদার ১৩ একর জমিতে আমন আবাদ করতে প্রায় ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে চার মণ বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো বীজতলাই পানির নিচে তলিয়ে যায়।

মঙ্গলবার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বীজতলা টিকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।

হানিফ চৌকিদার বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই এত বড় ক্ষতির মুখে পড়ব ভাবিনি। বীজতলা নষ্ট হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।’

একই উপজেলার কৃষক এছিন মৃধা পাঁচ একর জমির জন্য প্রায় ১১ হাজার টাকার বীজ কিনে বীজতলা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় তার বীজতলার অবস্থাও সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে বীজতলা করতে হলে বাড়তি খরচের পাশাপাশি আবাদও পিছিয়ে যাবে।’

শুধু আমনের বীজতলাই নয়, বিপাকে পড়েছেন গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষিরাও।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চর গঙ্গা এলাকার কৃষক রাসেল হাওলাদার পাঁচ শতাংশ জমিতে পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বরবটি, পেঁপে ও লালশাকের আবাদ করেছিলেন। এতে তার ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় সাত হাজার টাকার সবজি বিক্রি করলেও মাঠে থাকা বাকি সবজির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘পেঁপে ছাড়া অন্য কোনো সবজি বাঁচবে কি না বুঝতে পারছি না।’

একই উপজেলার দক্ষিণ বাহেরচর গ্রামের কৃষক সুপন মাহমুদ ১০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলেন। প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মাত্র দেড় হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পেরেছেন। এরপরই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় পুরো ক্ষেত।

তিনি বলেন, ‘এখন কীভাবে ফসল বাঁচাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে জেলার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ৯৭০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৮৫০ হেক্টর শাকসবজি, ১২০ হেক্টর পানের বরজ, ৮০ হেক্টর কলা, ২২০ হেক্টর পেঁপে, ৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন তরমুজ, ৪০ হেক্টর অন্যান্য ফসল এবং দশমিক ৫ হেক্টর মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৩ হাজার ৮০১ হেক্টর বীজতলা। কৃষি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ডুবে থাকা বীজতলার চারা নষ্ট হলে অনেক কৃষককে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে আমন চাষের সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সবজির উৎপাদন কমে বাজারে দামও বাড়তে পারে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, ‘এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে জেলার নিচু এলাকার অনেক কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।’



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।