" />
AmaderBarisal.com Logo

বিপৎসীমার ওপরে বরিশালের ৮ নদীর পানি


আমাদেরবরিশাল.কম

১৫ July ২০২৬ Wednesday ৯:১০:০১ PM

আমাদের বরিশাল ডেস্ক:

অমাবস্যার প্রভাবে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। 

আগামী দুই দিনে এসব নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম। তিনি জানান, মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে।

তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে বন্যার কোনো প্রভাব নেই। তবে অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে জোয়ারের সময় আটটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অমাবস্যা শেষ হতে আরও তিন দিন বাকি। এ সময়ে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।’

এছাড়া আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাইজুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার হলেও পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তিনি বলেন, লঘুচাপের কারণে আপাতত বরিশাল অঞ্চলে নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।