" />
AmaderBarisal.com Logo

আমূয়া-চালিতাবুনীয়া সংযোগ সেতু ৭ মাসেও মেরামত হয়নি

মনোতোষ হাওলাদার::
আমাদেরবরিশাল.কম

৯ December ২০১২ Sunday ৮:৫২:২২ PM

বামনা:: খেওয়ার নায় ওঠতে ডর লাগে, তাই মায়ের হাত ধইর‌্যা(ধরে)চোক বুইজ্যা দাড়াইয়া থাহি, নাও তুবানে দোলে তহন ভয়ে মাকে জড়াইয়া ধরি, আমি তো সাঁতার জানিনা তাই নাও ডোবার ভয়ে কাঁন্দি। আমূয়া কেজি স্কুলের প্লে-শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছয় বছরের শিশু আফসানা মিমি মুক্তি মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন ১০৫ মিটারের নদীতে খেয়া পাড় হওয়ার সময় দুর্ভোগ আর নদীতে ডোবার আতংকের কথা জানায়। প্রতিদিন আতংক নিয়ে নদীর খেয়া পাড় হয়ে তাকে স্কুলে যেতে হয়।

শুধু শিশু মুক্তিই নয় বরগুনার বামনার চালিতাবুনিয়া থেকে আমূয়ার ওপাড়ে প্রতিদিন কেজি স্কুল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিগ্রী কলেজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তাসহ কয়েকহাজার সাধারন পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পাড় হতে  হয়। চলতি বছর ৪ জুন সকালে ১০৫ মিটার লম্বা লোহার স্লিপার সেতুটি বালুবোঝাই কার্গোর ধাক্কায় নদী বক্ষে বিধ্বস্ত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। গত সাত মাস ধরে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হচ্ছেন। আর এ পারাপাড় নিয়ে একটি প্রভাশালী মহল চালাচ্ছে খেয়া বাণিজ্য।

ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, এলজিইডির অর্থায়নে ১৯৯২ সালে জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসা বন্দর আমূয়া বন্দর সংলগ্ন নদীর ওপর ১০৫ মিটার লম্বা লোহার স্লিপার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পরে দীর্ঘ এ সেতুটি নড়বরে হয়ে গেলে ২০০২ সালে সেটি দ্বিতীয় দফায় মেরামত করা হয়। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটির কিছু সিমেন্টের স্লিপারসহ মূল কাঠামো ক্ষতি হলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে সেতুটি আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

বামনা ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আমূয়া বন্দরের স্থায়ী বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে স্কুল কলেজের ছাত্র, ছাত্রী ও শিক্ষক সহ কয়েক হাজার পথচারী প্রতিদিন পাড়াপাড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আশা করেছিলাম জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে দ্রুত নির্মাণ করার উদ্যোগ নেবে।  কিন্তু বাস্তবে দেখাগেছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে সেখানে খেয়া বানিজ্য চালু করেছেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম রশীদ আহম্মেদ কার্গোর ধাক্কায় সেতুটি ধ্বসে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে লোহার ব্রীজ নির্মানের কোন প্রজেক্ট নেই, নতুন প্রজেক্টের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করানো হয়েছে। শীঘ্রই আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে দ্রুতগতিতে সেতুটি সংস্কারের জন্য ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।



সম্পাদনা: ডিভিশনাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।