" />
AmaderBarisal.com Logo

ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ, চায়না দুয়ারি জালের কারণে সংকটে দেশীয় মাছ


আমাদেরবরিশাল.কম

২৭ July ২০২৬ Monday ১:২৬:১০ PM

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরের বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। সমুদ্রে মাছের স্বল্পতার কারণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ। এতে একদিকে যেমন বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম। পর্যাপ্ত মাছ না আসায় চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে নদ-নদী ও খাল-বিলেও আগের মতো মিলছে না দেশীয় মাছ।

পিরোজপুর জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের মাছের দামই ঊর্ধ্বমুখী। ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকা প্রতি কেজি এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশের দাম প্রতি কেজি এক হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

সামুদ্রিক অন্যান্য মাছের বাজারেও একই চিত্র। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রূপচাঁদা মাছের দাম প্রতি কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

চাষের মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রজাতিভেদে এসব মাছের দাম প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৭০০ টাকা। রুই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং মরমা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহারে পোনা ও ছোট মাছ নিধন হওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছের উৎপাদন। সামুদ্রিক ও দেশীয়—উভয় ধরনের মাছের সংকটে এখন বাজারে সবচেয়ে বেশি ভরসা চাষের মাছ। তাদের দাবি, সাগরে ট্রলিং ফিশিং জাহাজের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণেও মাছের রেণু নষ্ট হচ্ছে, যা উৎপাদন কমে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে মাছ-মাংস এখন অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন বলেন, ইলিশের এখন ভরা মৌসুম, কিন্তু বাজারে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিক্রি করব কী! নিজেদের খাওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তাও পাই না।

আরেক ব্যবসায়ী আজমল শেখ বলেন, বর্তমানে কিছু চায়না জাল ব্যবহৃত হচ্ছে, যার কারণে দেশীয় মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আগে বর্ষাকালে অনেক মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন আগের মতো মাছ দেখা যায় না। সাগরে ট্রলিং জাহাজের কারণেও মাছের রেণু নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মাছ কিনতে আসা শাহজালাল শেখ বলেন, ইলিশ মাছের যে দাম, আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। বাজারে মাছও কম, আর যা পাওয়া যায় তার দাম ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়। ইলিশ এখন বড়লোকের খাবার, গরিবের জন্য বিলাসিতা। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়তে তারা সাগর থেকে নদীতে আসে। কিন্তু বর্তমানে নদ-নদীতে অনেক ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে ইলিশের প্রবেশে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই হয়তো নদীতে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পিরোজপুরে জেলেদের জালে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে, তার বড় অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। ফলে স্থানীয় বাজারে ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে।

তিনি আরও বলেন, চায়না দুয়ারি জালের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিস নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।