" />
AmaderBarisal.com Logo

দৈনিক ১০-১১ ঘণ্টা লোডশেডিং: বরিশালে বিপর্যস্ত জনজীবন ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস


আমাদেরবরিশাল.কম

১০ August ২০২৬ Monday ১২:১৪:৩৫ PM

বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালে দিন-রাতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে রাতে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে পাম্পগুলো পানি উত্তোলনে হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি অনেকের মোবাইল ফোন ও আইপিএস পর্যন্ত অচল হয়ে পড়ছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে ধস নামছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এতে নগরবাসীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

বরিশাল নগর ও সংলগ্ন উপজেলাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় প্রধানত দুটি বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। এর একটি শহরের রূপাতলী ও অপরটি কলাডেমায়। রূপাতলী গ্রিড স্টেশনের আওতায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ মেগাওয়াট। এসব উপবিতরণ ব্যবস্থা থেকে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয় নগরী ও আশপাশের সাধারণ ফিডারগুলোতে। দায়িত্বশীল সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রোববার বিকাল ৩টায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছে রূপাতলী। ৭২ মেগাওয়াটের ঘাটতি সামাল দিতে উপবিতরণ ব্যবস্থার আওতাধীন ফিডারগুলোতে প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর গড়ে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত করতে হয় লোডশেডিং। 

কলাডেমা স্টেশন থেকে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে রোববার দুপুরে সরবরাহ ছিল ৬০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। ফলে এখানেও ৭৫ মেগাওয়াটের ঘাটতি সামাল দিতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় করতে হয়েছে লোডশেডিং। এসব বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কেউ। নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা যেভাবে পাই সেভাবেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করি। চাহিদার তুলনায় কম দেওয়া সম্পর্কে বলতে পারবে কেবল ঢাকা। আপনারা সেখানে যোগাযোগ করুন।’

বিদ্যুতের এমন দশায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বরিশাল নগরীর সদর রোডে থাকা তৈরি পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান নেক্সট প্লাস’র মালিক ওয়াজেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টার ৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। প্রথম প্রথম জেনারেটর চালাতাম। এখন দেখি জেনারেটরেও মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তেল লাগে। এসি না চললে দোকানে গ্রাহকরাও ঢুকতে চান না। এখন বিদ্যুৎ গেলে কর্মচারীদের নিয়ে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকি।’ 

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবায়েদুল হক চান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ছে। এসব ব্যবসায়ীর একটি বড় অংশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন। মাসে মাসে তাদের সুদ আর ঋণের কিস্তি দিতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে তো সবাইকে পথে বসতে হবে।

বরিশাল নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার। তবে এই পরিস্থিতিতে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও ৩৮টি উৎপাদক পাম্পের মাধ্যমে তিন কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে নগরভবন।

সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মে এখন আর পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে একটানা চালিয়ে রিজার্ভারগুলো পূর্ণ করি আমরা। অনবরত লোডশেডিংয়ের কারণে এখন ভেঙে ভেঙে পাম্প চালিয়ে রিজার্ভার পূর্ণ করতে হচ্ছে। এতে জটিলতায় পড়ছে পাম্প স্টেশনগুলোর কর্মীরা।’

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানুষের জীবনধারণের প্রায় সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ সরবরাহে যখন ঘাটতি দেখা দেয় তখন তো সবকিছুই অচল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাতেও তাপমাত্রা ২৮ থেকে ২৯-এ ওঠানামা করে। এই অসহ্য গরমে যদি বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের কী অবস্থা হয়? সরকারের উচিত এই বিষয়টির দিকে জরুরি ভিত্তিতে নজর দেওয়া।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।