বরিশাল নগরীতে সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে অনেকবার। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দিয়েছেন প্রতিশ্রুতি। তবে সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে। এখনো অনেক এলাকার সড়কের চিত্র বদলায়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়কে জমে যাচ্ছে কাদা-পানি।
কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ, আবার কোথাও উঠে গেছে পিচ। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের কয়েকটি সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে সড়কের খানাখন্দে স্থানীয়দের ভোগান্তির চিত্র। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পান্থ সড়ক, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ি মসজিদসংলগ্ন মেহেদী হাউজিং সড়ক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাঞ্চ রোড, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাদরাসা সড়ক, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোড়াচাঁদ দাস রোড লেন এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরকুটির জামে মসজিদসংলগ্ন বিভিন্ন শাখা সড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
‘রোগী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। রাস্তাটির কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো অটোরিকশা উল্টে যাচ্ছে আবার কখনো রিকশার চাকা ভেঙে পড়ছে। টানা বৃষ্টিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের দ্রুত নজর দেওয়া উচিত’—৭ নম্বর ওয়ার্ড বাসিন্দা
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির পানি জমে ভাঙা সড়কের গর্তগুলো তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে পথচারীদের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পান্থ সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা ছিটকে পথচারীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের কাদা-পানি মাড়িয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে যায়। কাদা-পানিতে রাস্তা একাকার হয়ে পড়ে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।’
‘সড়কটি এতটাই নিচু যে, বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় পানি জমে থাকে। এলাকায় জনপ্রতিনিধির পরিবর্তন হলেও সড়কটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা চাই, সড়কটির দ্রুত সংস্কার করা হোক’—৪ নম্বর ওয়ার্ড বাসিন্দা
আরেক বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। সড়কটি এলাকাবাসী মিলে বিভিন্ন সময়ে জোড়াতালি দিয়ে চলাচল উপযোগী করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট না করে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করতে হবে।’
নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ি মসজিদসংলগ্ন মেহেদী হাউজিং সড়কের অবস্থাও নাজুক। সড়কটিতে জোয়ারের পানি ও ময়লা-আবর্জনায় স্থানীয়দের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, জোয়ারের পানিতে প্রায়ই সড়কটি তলিয়ে যায়। এর সঙ্গে সারাবছর ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল বাঢ়ি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সড়কটি এতটাই নিচু যে, বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় পানি জমে থাকে। এলাকায় জনপ্রতিনিধির পরিবর্তন হলেও সড়কটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা চাই, সড়কটির দ্রুত সংস্কার করা হোক।’
‘নগরীর যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে’—বিসিসি প্রশাসক
নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাঞ্চ রোডের বিভিন্ন অংশেও দেখা গেছে ভাঙাচোরা চিত্র। সড়কের পিচ উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সেই গর্তগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর হাওলাদার বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলে কাদা-পানির কারণে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা সড়কটির দ্রুত সংস্কার চাই।’
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেল সিকদারের ভাষ্য, ‘রোগী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। রাস্তাটির কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো অটোরিকশা উল্টে যাচ্ছে আবার কখনো রিকশার চাকা ভেঙে পড়ছে। টানা বৃষ্টিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির বিষয়ে সিটি করপোরেশনের দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’
একই অবস্থা নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাদরাসা সড়কের। বেশকিছু দিন ধরেই সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে মাটি বের হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পর ভাঙা অংশগুলোতে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি এ সড়ক ব্যবহারকারী পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শামীম বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা অনেকদিন ধরে খারাপ। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কাদা-পানির কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। দ্রুত সংস্কার করা হলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোড়াচাঁদ দাস রোডের বিভিন্ন অংশেও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পিচ উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে কাদা পানি জমে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা অনেকদিন ধরেই খারাপ। বৃষ্টি হলে পানি ও কাদায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
একই ওয়ার্ডের কালেক্টরেট স্কুল সড়কের অবস্থা আরও নাজুক। বিদ্যালয়ে প্রবেশের মূল রাস্তায় বৃষ্টির কারণে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কটিতে কাঁদা পানি জমে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে হেঁটে চলা মুশকিল। ফলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরকুটির জামে মসজিদ-সংলগ্ন বিভিন্ন শাখা সড়কের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও সড়কের নিচের মাটি বের হয়ে এসেছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব স্থানে কাদা তৈরি হওয়ায় রিকশা-অটোরিকশা চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম বলেন, ‘এ এলাকার কয়েকটি শাখা সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। বৃষ্টি হলে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। রিকশা-অটোরিকশা চলাচলেও সমস্যা হয়। দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই এসব সড়কে একই ধরনের দুর্ভোগ দেখা দেয়। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে ইট, বালু বা খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।
তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেকসই সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘নগরীর যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।