" />
AmaderBarisal.com Logo

বরিশালে স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাজী শাওন ক্লোজড


আমাদেরবরিশাল.কম

১৯ August ২০২৬ Wednesday ১২:৫৬:৪০ AM

নগর প্রতিনিধি:

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী শাওনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে আকস্মিকভাবে তাকে ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে অল্প সময় দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসআই কাজী শাওন আলোচনায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আটকের পর অর্থ আদায়, আটক বাণিজ্য এবং আসামি গ্রেপ্তারের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার রাতে তাকে ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অনেকের মধ্যে স্বস্তি প্রকাশের বিষয়টিও লক্ষ্য করা যায়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তার এক স্বজনকে সোমবার রাতে নগরীর বান্দরোড এলাকা থেকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে টহল গাড়িতে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে তাকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়েরও অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি জানতে পেরে বরিশাল রেঞ্জের সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এর পরপরই রাতেই এসআই কাজী শাওনকে স্টিমারঘাট ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এসআই কাজী শাওন। তিনি দাবি করেন, তাকে হঠাৎ করেই বদলি করা হয়েছে। পুলিশের চাকরিতে এ ধরনের বদলি স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আটক বাণিজ্যের অভিযোগের কারণে তাকে শাস্তিমূলকভাবে ফাঁড়ি থেকে সরানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

এসআই কাজী শাওনকে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন উল ইসলাম। তবে গভীর রাতে তাকে কেন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে শাওনকে প্রত্যাহারের পর স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহিউদ্দিনকে। তবে সোমবার রাতের ঘটনা নিয়ে তিনিও গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

এসআই কাজী শাওনকে প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে বিএমপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতের একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্যের অভিযোগও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ছিল বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

এসআই কাজী শাওন জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হলো।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।