" />
AmaderBarisal.com Logo

প্রতিশ্রুতির ১৬ বছর পর বামনায় নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ

মনোতোষ হাওলাদার::
আমাদেরবরিশাল.কম

১২ December ২০১২ Wednesday ৫:১৯:৪৪ PM

প্রতিশ্রুতির ১৬ বছর পর নির্মিত হচ্ছে নবম সেক্টরের সাব- সেক্টরের  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ


প্রতিশ্রুতির ১৬ বছর পর নির্মিত হচ্ছে নবম সেক্টরের সাব- সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ

বামনা:: বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের প্রতিশ্রুতির ১৬ বছর পর অবশেষে নির্মিত হতে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার বুকাকুনিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ।

বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে নবম সেক্টরের সাব- সেক্টরের হিসেবে ব্যবহৃত স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ বহুদিন ধরে ভিত্তি প্রস্তরেই সমাপ্ত ছিল। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ১৯৯৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন আওয়ামীলীগ  সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী থাকাকালে বুকাবুনিয়ায় স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনের ১৬ বছর পরে এর বাস্তব্য়ান দেখবে ওই সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নবম সেক্টরের পটুয়াখালীর আওতাধীন বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়ায় সাব-সেক্টর স্থাপন করা হয়। সেক্টর কমান্ডার  ক্যাপ্টেন মেহেদী আহসান ও আলী ঈমাম বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের উদ্বোধন করেছিলেন। এ সাব-সেক্টরের অধীনে মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, বরগুনা, বেতাগী, আমতলী, কাঁঠালিয়ার দক্ষিণ উপকুলীয় এলাকার প্রায় চার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা এখানে ঘাটি স্থাপন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বুকাবুনিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের সাব-সেক্টর হিসেবে সেখানে স্মৃতি স্তম্ভ হবে এমন আশায় রাষ্ট্রপতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরপরই স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা জীবন কর্মকার, রনজন কর্মকার ও সুধির কর্মকার ৩৬ শতাংশ জমি দান করেন। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের আশায় যেসকল মুক্তিযোদ্ধারা জমি দান করেছিলেন তাঁদের ভিতর থেকে অনেকেই পরোলোকে চলে গেছেন। তাঁরা দেখে যেতে পারেনি তাঁদের দানের স্বীকৃতি। তাঁদেরই জমিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের চূঁড়া। এই চূঁড়ায় পৌছানোর জন্যই তাঁরা নয় মাস যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করে ছিল। বুকাবুনিয়ায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান এখানকার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত মানুষদের প্রাণের দাবী। তাইতো এতো বছর অপেক্ষার পর ঘটতে চলেছে তাঁদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

জমিদাতা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা রনজন কর্মকারের কাছে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মা নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করবে সরকার এ আশায় আমরা জমি দিয়েছিলাম। এতদিনেও স্বাধীন দেশে একাজটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তবে এটি নির্মানের জন্য টেন্ডার হয়েছে শুনে এখন অনেকদির বাঁচবার স্বাধ জেগেছে। এতোদিন অপেক্ষার পর কবে নির্মান কাজ শুরু হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আশা করি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুব শিঘ্রই কাজ শুরু করবেন।

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুত্রে জানাযায় গত নভেম্বর মাসে বুকাবুনিয়ায় স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের জন্য দরপত্র আহব্বান করা হয়। সে দরপত্রের অনুযায়ী ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য শাহ-নেওয়াজ সেলিম কনক্ট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্মান কাজের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কবে নাগাত নির্মান শুরুহবে তা এখনো জানাযায়নি।

এ ব্যাপারে বামনার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো.গোলাম সত্তার বলেন, ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনের পরে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। তবে শুনেছি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্ধ এসেছে। কাজটি শীঘ্রই বাস্তবায়িত হোক এটাই এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের আশা।

বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুল রব মুর্তাযা আহসান বলেন, উপজেলা পরিষদ চালুর পরে ৪৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বরগুনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্ধ পাওয়াগেছে।  গতমাসে বরগুনার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তর থেকে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করে ঠিকাদার নির্বাচিত করা হয়েছে।শীঘ্রই স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের কাজ শুরু হবে বলে আমি  আশাবাদী।

বরগুনা স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুর রহিম বলেন, আমরা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য টেন্ডার দিয়েছি। বরগুনার শাহ-নেওয়াজ সেলিম কনক্ট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডার লটারীতে এর নির্মান কাজ পায়। তবে তাদের কাছে এখনো এনওএ পাঠানো হয়নি। এনওএ পাওয়ার পরে তারা যদি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করতে সক্ষম না হয় তাহলে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানকে নির্মান কাজটি দেওয়া হবে। আমি আশাবাদী ১৬ ডিসেম্বরের পরপরই বুকাবুনিয়ায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান কাজ শুরু হবে।



সম্পাদনা: ডিভিশনাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।