" />
AmaderBarisal.com Logo

ছাদে ফাটল, বেরিয়ে এসেছে রড: মনপুরায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান


আমাদেরবরিশাল.কম

২ September ২০২৬ Wednesday ৪:৩২:৪০ PM

মনপুরা ((ভোলা) প্রতিনিধি:

ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বেরিয়ে এসেছে রড। দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারা কোথাও আছে, কোথাও নেই। মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। সব মিলিয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে দ্বিতল ভবনটি।

এমন চিত্র দেখা গেছে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনে। এ মাদ্রাসায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে ক্লাশ করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে গেছে। ভবনের খুঁটি (পিলার) ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে এসেছে। ভবনটির বারান্দা ও চারপাশের অবস্থাও খুবই নাজুক। বৃষ্টির পানি চুঁয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে।

মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী আলিসা আক্তার জিনুক বলেন, আমরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাশ করি। ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারি না। বৃষ্টির পানি চুঁয়ে পড়ে আমাদের বই-খাতা ভিজে যায়।

নবম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার রিংকু বলেন, ক্লাশ করার সময় অনেক সময় মনে হয় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। মাদ্রাসায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবন এবং একটি টিনশেড ভবন রয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা এয়াকুব আলী হান্নান বলেন, মাদ্রাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। বর্ষায় প্রতিদিন পানি চুঁয়ে পড়ে। মাদ্রাসায় নতুন ভবন প্রয়োজন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো বাজেট নেই। আপনারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানান, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।