![]() মাছের সংকট, বাড়ছে ঋণের বোঝা জেলের
৬ September ২০২৬ Sunday ১:০৭:৫১ PM
চরফ্যাশন ((ভোলা) প্রতিনিধি: ![]() ভোলার চরফ্যাশনের জেলেদের জালে নদী ও সাগরে একসময় ধরা পড়ত প্রচুর মাছ। মাছ বিক্রি করেই চলত হাজারো জেলে পরিবারের সংসার। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। নদী ও সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় মাছ না পাওয়ায় কমেছে জেলেদের আয়। অথচ ট্রলার, জাল, জ্বালানি, খাবার ও সংসারের খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মহাজন ও বিভিন্ন সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি। ফলে মাছের সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জেলেদের ঋণের বোঝা। চরফ্যাশনের সামরাজ, ঢালচর, কচ্ছপিয়া, মুজিবনগর, নুরাবাদ, চর মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, চর মানিকা ও আহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক জেলে জানান, মাছ ধরার মৌসুম ভালো গেলে কোনোভাবে সংসার চলে এবং ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করা সম্ভব হয়। কিন্তু মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এখন অনেক জেলেকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেলেরা জানান, কয়েক বছর আগেও নদীতে একবার জাল ফেললে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, এখন তার জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ট্রলারের জ্বালানি খরচ ও শ্রমের তুলনায় মাছ বিক্রি করে পাওয়া অর্থও কম হয়। আয় না থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। নুরাবাদ ইউনিয়নের জেলে সামসুদ্দিন বলেন, ‘এখন অনেক সময় সারা দিন-রাত জাল ফেলেও তেমন মাছ পাই না। মাছ না থাকলে ঋণের কিস্তির টাকা কোথা থেকে দেব, এটাই এখন বড় চিন্তা।’ জেলেদের অনেকেই মাছ ধরার ট্রলার, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে মহাজন, এনজিও কিংবা স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছেন। এখন মাছ কম পাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। কেউ কেউ পুরোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে নতুন করে ঋণ নিচ্ছেন। এতে এক ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে আরেক ঋণের বোঝা বাড়ছে। সামরাজ মৎস্য ঘাটের সভাপতি আজিজ পাটওয়ারী বলেন, বর্তমানে নদী ও সাগরে মাছ কমেছে। এতে জেলেদের আয়ও কমেছে। তাঁরা সংসার চালাতে মহাজন ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, এই উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে জেলের সংখ্যা লক্ষাধিক। এদের মধ্যে সরকারি নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩১১ জন। সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন ১৭ হাজার ৫৬১ জন। সমুদ্রগামী জেলে ট্রলার রয়েছে ১ হাজার ৩৬৫টি। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, সরকার প্রতিবছরই জেলেদের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রেখেছেন এবং সেই বরাদ্দ থেকে জেলেদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে নদী ও সাগরে মাছ অনেকটাই কমেছে। জেলেরা তাঁদের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না। ফলে অনেক জেলেই ঋণের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

