![]() গৌরনদীতে সালিশের ২ দিন পরই নারীর রহস্যজনক মৃ*ত্যু
১৪ September ২০২৬ Monday ৫:৩৯:৪৪ PM
গৌরনদী ((বরিশাল) প্রতিনিধি: ![]() সালিশের দুই দিন পরই রহস্যজনকভাবে গীতা রানি দাস (৩০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে থানা রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ময়নাতদন্তের জন্য ওই নারী লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামের। মৃত গীতা রানি ওই গ্রামের দিনমজুর গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে। মৃতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে একই এলাকার লক্ষণ শীলের ছেলে সঞ্জয় শীলের সঙ্গে গীতা রানির প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। পরবর্তীতে তারা শাঁখা-সিঁদুর ও মালা বদল করে কথিত বিয়েও করেন।গত দেড় মাস আগে গীতা রানি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। এরপর থেকে গীতাকে মেনে নিতে চাইছিলেন না সঞ্জয়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে গ্রাম্য সালিশ করেন। প্রথম দফার সালিশে গীতা রানিকে স্ত্রী এবং তার গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানকে মেনে নিয়ে বাড়িতে উঠিয়ে নেওয়ার রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের পর সঞ্জয় ও তার পরিবার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গীতা ও তার নবজাতক কন্যাকে তাদের (সঞ্জয়) বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে সালিশের স্থান ত্যাগ করেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তীতে সালিশের ওই রায় না মেনে সঞ্জয় এলাকা থেকে আত্মগোপন করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় সালিশ বৈঠকে বসা হয়। সালিশে সঞ্জয়ের সঙ্গে গীতা রানির সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য গীতাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন সালিশকারীরা। স্থানীয় ও মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম দফার সালিশে সঞ্জয় তাদের বাড়িতে গীতাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মিথ্যা আশ্বাস দেন। দ্বিতীয় দফার সালিশে প্রহসনের রায় দেন সালিশকারীরা। যে কারণে ওই সালিশের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন গীতা রানি। রোববার বিকেলে গীতা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাটাজোর সুইজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে গীতা রানির মৃত্যু হয়। মৃত গীতা রানির বাবা গোপাল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তার মেয়ে গীতা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, গ্রামবাসী গীতা রানির মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক দাবি করায় তার (গীতা) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে লাশ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

