![]() নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে বাহেরচর
১৭ September ২০২৬ Thursday ১:৪৪:২৩ PM
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার বাহেরচর গ্রাম যেন ধীরে ধীরে পায়রা নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। অব্যাহত নদীভাঙনে গত কয়েক দিনে অন্তত ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর ভাঙনে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। ভাঙন থামার কোনো লক্ষণ নেই। এতে এখন হুমকির মুখে পড়েছে ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ, মোল্লা বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, পায়রা নদীর পাড়জুড়ে ভাঙনের চিহ্ন। কোথাও নদীর কিনারে ঝুলে আছে বসতভিটার শেষ অংশ। কোথাও সদ্য ভেঙে পড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ। নদীর দিকে তাকিয়ে ভাঙনের আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি ও মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর যাদের বসতভিটা ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে, তাদের কেউ কেউ সরকারি সড়কের পাশে পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে রান্নাবান্না, সংসারের মালামাল আর শিশুদের নিয়ে চলছে তাদের অনিশ্চিত জীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাহেরচরে নদীভাঙন নতুন নয়। বছরের পর বছর পায়রা নদীর ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার জীবনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ঘর সরিয়েছে। কিন্তু এবার অনেকের সামনে আর যাওয়ার জায়গা নেই। ভাঙনে সর্বস্ব হারানো নিটুলী রানী বলেন, ইতোমধ্যে সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছি। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেছে। এখন রাস্তার পাশে থাকতে হচ্ছে। আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই, সব নদীতে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির খান বলেন, অনেক মানুষ আইছে, অনেক কথা কইছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। কেউ আমাগো দিকটা দেখে না। আরেক বাসিন্দা রিপন মাল বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকে ভাঙন চলছে। জীবনে পাঁচ-ছয়বার ঘর সরিয়েছি। এখন বাধ্য হয়ে বাজারে ভাড়া বাসায় থাকছি। ৭৫ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার খানও একই পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন, বারবার ভাঙনে এখন আমাদের কিছুই নাই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর থাকতে হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বাহেরচরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি এখন নদীর ভাঙনের হুমকিতে। আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদারের দাবি, এ পর্যন্ত বাহেরচর এলাকায় প্রায় ৩৫০ একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর ওপারে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন ওই জমি দখল করে রাখায় বাহেরচরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সেখানে যেতে পারেনি।’ নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রাম রক্ষায় এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

