![]() পটুয়াখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় দ্বিগুণ রোগী
১৭ September ২০২৬ Thursday ৬:৫৪:৩১ PM
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ![]() পটুয়াখালীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন। একদিনের ব্যবধানে রোগী ভর্তির সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় বাড়ছে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বুধবারের (১৬ সেপ্টেম্বর) দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯০ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৪ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৩৮ জন, মির্জাগঞ্জে ১৬, দশমিনায় ৬, কলাপাড়ায় ২২, গলাচিপায় ১৬, বাউফলে ৩ এবং দুমকিতে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে রাস্তার পাশে মেঝেতে রোগীরা সেবা নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের মধ্যে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। ডেঙ্গু রোগীরদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু রোগীদের একই জায়গায় রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হওয়া ৪৪ রোগীর মধ্যে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ২২ জন, মির্জাগঞ্জে ৬, দশমিনায় ২, কলাপাড়ায় ৪, গলাচিপায় ৯ এবং বাউফলে একজন রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ ওয়ার্ডের পরিবেশ ও সেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন। লাউকাঠি থেকে হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যকে নিয়ে হাসপাতালে এসে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ওয়ার্ডে চাপও বেড়েছে। দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়াই এখন তাদের প্রধান চাওয়া। আমতলী থেকে আসা ডেঙ্গু রোগী মোনায়েম বলেন, ‘গত ৯ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় আছি। শরীর খুবই দুর্বল, অনেক কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থাও খুব খারাপ ও অপরিষ্কার। রোগীদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।’ পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, ‘রোগীরা হাসপাতালে এলে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে গেলে সীমিত লোকবল দিয়ে সেবা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় যে হারে রোগী আসছেন, তা অব্যাহত থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।’ এ অবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগেও সবাইকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বাড়তে পারে। এতে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।’ তাই বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

