" />
AmaderBarisal.com Logo

বরগুনায় কবরস্থানের জমি দখল করে বিএনপি নেতার ঘর নির্মাণের অভিযোগ


আমাদেরবরিশাল.কম

১৭ September ২০২৬ Thursday ১০:১৪:২৯ PM

পাথরঘাটা ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার কাজীবাড়ি ৫২ ঘর আবাসনের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত কবরস্থানের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে।

আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর প্রভাবশালীরা কবরস্থানের ওই জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।

পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ডে পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের পৌরসভার শেষ সীমানায় খাসজমির উপর কাজীবাড়ি ৫২ ঘর আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। আবাসনের ৫২টি ঘরে প্রায় ৩শ মানুষ বসবাস করছেন।

আবাসনের বাসিন্দারা জানান, তাদের নিজস্ব জমি-জমা না থাকায় সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ঘরে তারা বসবাস করছেন। বাসিন্দাদের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য কবরস্থানের জায়গাও বরাদ্দ রয়েছে; কিন্তু ওই জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু হওয়ায় ভবিষ্যতে আবাসনের বাসিন্দাদের লাশ দাফন নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন কাজীবাড়ি ৫২ ঘর আবাসনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মিত আবাসনের প্রবেশদ্বারের পাশে কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। মাটির নিচ থেকে পাকা পিলার নির্মাণ করে স্থাপনা তৈরির কাজও দৃশ্যমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জায়গাটি দেখিয়ে দাবি করেন, এটিই তাদের জন্য বরাদ্দ কবরস্থানের জায়গা।

সরেজমিন দেখা যায়, আবাসনের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনের ঘরগুলোর মাঝেও পর্যাপ্ত খালি জায়গা নেই। ফলে কোনো বাসিন্দার মৃত্যু হলে দাফনের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আবাসনের বাসিন্দারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কবরস্থানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রভাবশালী মহল। দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং জায়গাটি রক্ষার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

আবাসনের বাসিন্দা খোরশেদ মিয়া বলেন, আমার নাতি প্রায় এক বছর আগে মারা গেছে। নির্ধারিত কবরস্থানে দাফন করতে চাইলে প্রভাবশালীরা বাঁধা দেয়। সেখানে দাফন দিতে না পেরে আবাসনের দুটি ঘরের মাঝখানে প্রায় তিন হাত ফাঁকা জায়গায়, বাথরুমের পাশে কোনোমতে তাকে দাফন করতে হয়েছে। 

স্থানীয় আলম, আসমা আক্তার ও কুলসুমসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকার আমাদের থাকার জন্য ঘর দিয়েছে; কিন্তু এখানে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। আবাসনে কোনো রাস্তা নেই, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে যায়। এত সমস্যার মধ্যেও এখন মৃত্যুর পর দাফনের জায়গাটুকুও দখল হয়ে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব জমি নেই। সরকার যে জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেছে, সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটাতে চাই। অন্তত মৃত্যুর পর দাফনের জন্য বরাদ্দ জায়গাটুকু যেন দখল হয়ে না যায়—প্রশাসনের কাছে সেটাই আমাদের দাবি।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা এসব বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ১৯৯০ সালে সরকার থেকে আমি ৩০ শতাংশ জমি সেটেলমেন্ট নিয়েছি; কিন্তু আমার সেটেলমেন্ট বাতিল না করেই সেখানে আবাসন করা হয়েছে। বিষয়টি আমি তৎকালীন ইউএনওকে জানালে তিনি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন; কিন্তু আমাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। পরে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম।

শাহিন মোল্লা আরও বলেন, এখানে আমি যে ঘর নির্মাণ করছি, সেই বিষয়ে সার্ভেয়ার ও এসিল্যান্ড অবগত আছেন।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল  বলেন, সরকারি জমি দখল করার অধিকার কারো নেই। বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।