![]() ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, বাড়ছে দুর্ঘটনা
১৮ September ২০২৬ Friday ৪:৫০:০৩ PM
বিশেষ প্রতিনিধি: ![]() পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়কগুলোতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে সেই তুলনায় বাড়েনি বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের প্রশস্ততা। ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের বড় অংশই মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত। এর সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। উজিরপুরের সানুহার, বামরাইল, নতুন শিকারপুর, জয়শ্রী ও ইচলাদীসহ বিভিন্ন এলাকার বিপজ্জনক বাঁকগুলো দীর্ঘদিন ধরে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের আতঙ্কের কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত বাঁক, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে এসব এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০২২ সালের ২৯ মে ভোরে ঢাকা থেকে বরিশালগামী ‘যমুনা লাইন পরিবহন’-এর একটি বাস সানুহারের বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ যাত্রী নিহত ও অন্তত ২১ জন আহত হন। এর দুই দিন পর একই স্থানে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও দুজন নিহত হন। সর্বশেষ গত মার্চের শেষ দিকে ওই এলাকায় ট্রাক ও থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। স্থানীয়দের মতে, শুধু উজিরপুর অংশেই অন্তত আটটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাঁক দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে। সানুহার বাজারের চা দোকানি মো. ছগির বলেন, ‘সানুহারের বাঁকে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে এই মোড়গুলোর কারণে অগণিত দুর্ঘটনা দেখেছি। মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়।’ চালকদের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, প্রয়োজনীয় গতিরোধক এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক প্রশস্ত ও সোজা করার উদ্যোগ নিতে হবে। মহাসড়কে প্রায় ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কে প্রায় ৭০টি বাঁক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালে ৫২৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জন, ২০২২ সালে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫১১ জন, ২০২৩ সালে ৪৩৬টি দুর্ঘটনায় ৪১১ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪২১ জন নিহত হন। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশ বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুর্ঘটনার শিকার। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত মহাসড়কে চলে আসে। আগের গতিতে বাস চালাতে গিয়ে বাঁকগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটে। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত কিছু বাঁক একেবারে ইউ আকৃতির। এর সঙ্গে পরিবহন কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’ তার মতে, চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বাঁক সোজা করতে প্রকল্প পটুয়াখালী সওজের তথ্য অনুযায়ী, লেবুখালী পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এর কয়েকটিতে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে দুর্ঘটনা কমবে বলে মনে করেন পটুয়াখালী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন। তবে সওজের সংখ্যার সঙ্গে একমত নন পরিবহন মালিকরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও পটুয়াখালী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির বলেন, পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে এসব বাঁকে দুর্ঘটনা আরও বাড়ে। বরিশাল অংশেও ঝুঁকি তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দ্রুতগতির যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে পার হয়ে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়কে ঢোকার পর অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বরিশাল অংশের ৫৬ কিলোমিটার মহাসড়কে ৪০ থেকে ৪২টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া কিংবা মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটছে। বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৩৬টি বাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মহাসড়ক ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কাজও চলছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ‘ধীরে চলুন’, ‘বামে মোড়’, ‘ডানে মোড়’ ও গতিসীমাসহ সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও চালকদের অসচেতনতা ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। পদ্মা সেতুর পর বেড়েছে যানবাহনের চাপ সওজ অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি দুই লেনের এবং গড়ে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহন চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরু সড়কে অতিরিক্ত চাপের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। বাজার এলাকায় স্পিড ব্রেকার ও সতর্কতামূলক চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। তবে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ হলে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমে আসবে। বরিশাল বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় চালকের অসচেতনতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল করা হয়। চালক ও মালিকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

