![]() বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ালেন লঞ্চ মালিকরা
২৪ September ২০২৬ Thursday ৩:৩৬:২৮ PM
আমাদের বরিশাল ডেস্ক: ![]() ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির পরপরই বরিশাল-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ রুটে বেড়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া। সরকারি ঘোষণার আগেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে বাড়তি ভাড়ায় আদায় করছেন বলে যাত্রীদের অভিযোগ। শ্রেণি অনুযায়ী ডেক, কেবিন, সোফা ২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার রুটে বেশি ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ যাত্রীদের। তবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হলেও তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নয় বলে দাবি করেছেন লঞ্চ মালিক এবং বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর বরিশালে। পদ্মাসেতু চালুর পূর্বে বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচল করতো ১৭টির বেশি বিলাসবহুল নৌযান। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ৫০টির অধিক একতলা লঞ্চ চলাচল করত। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি অর্থাৎ পদ্মা সেতু চালুর পর বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ১৫টি এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ৩০টি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল রুটে দুটি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে ৫-৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই দূরপাল্লার এবং অভ্যন্তরীণ রুটে নিজেদের ইচ্ছে মতো ভাড়া বাড়িয়েছে লঞ্চ মালিকরা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুট অর্থাৎ বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পাতারহাট, ইলিশা, বরিশাল-কালিগঞ্জ, বরিশাল-বোরহানউদ্দিন, বরিশাল-মৃধারহাট এবং বরিশাল-উলানিয়া রুটে দৈনিক একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। এসব লঞ্চে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন মালিকরা। বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের যাত্রী আসাদুল্লাহ হাসান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। লঞ্চে এসে শুনি ভাড়া বেড়েছে। দুজনে মিলে একটা সিঙ্গেল কেবিন নিয়েছি। কেবিনের ভাড়া ১২০০ এবং সঙ্গে একটি টিকিটের মূল্য ৩৫০ টাকা বাড়তি দিতে হবে। অথচ পূর্বে কেবিন এক হাজার এবং ডেকের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে ছিল। বরিশাল-ইলিশা রুটের লঞ্চ যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, তেলের দাম বাড়ানোয় লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। তাহলে বাড়তি ভাড়াটা আসবে কোথা থেকে। শুধু লঞ্চ নয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। সব কিছুতেই একটা প্রভাব পড়েছে। সরকারের প্রতি দাবি থাকবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করার। বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হওয়ায় আগে থেকেই আমরা যাত্রী পাচ্ছি না। তার ওপর লিটারে ২০ টাকা করে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান আরও বেড়ে যাচ্ছে। তাই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সাথে নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বরিশালে যারা বাড়তি ভাড়া নিয়েছে বিকেলের পর বন্ধ করা হয়েছে। ভাড়ার নতুন তালিকা নদীবন্দরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লঞ্চ মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে শুনেছি। তবে সেটা এখনো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে কম। ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৪২৯ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১৬০০ টাকা। সেখানে সিঙ্গেল কেবিনে ২০০ টাকা এবং ডেকের ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ডাবল কেবিনের ভাড়া পূর্বে যেখানে ২ হাজার টাকা ছিল সেটা এখন ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ২৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে হিসেবে অনুযায়ী ভাড়া বৃদ্ধি হলেও তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান বন্দর নিয়ন্ত্রক। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

