![]() বরিশালে আ.লীগের ঝটিকা মিছিলে চাপ বাড়ছে পুলিশের
২৬ September ২০২৬ Saturday ৮:১১:২৪ PM
বিশেষ প্রতিনিধি: ![]() বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও আকস্মিক তৎপরতার আগাম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। দলটির কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য না পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিও স্পষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ফলে কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর পুলিশকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে পুলিশের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ মানতে নারাজ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, কিছু না কিছু তথ্য নিয়মিতই পাওয়া যায়। তা না হলে নগরীতে এরই মধ্যে আরও অনেক নাশকতা ঘটত। তবে ঝটিকা মিছিল হওয়ায় অনেক সময় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বরিশালে আওয়ামী লীগের তৎপরতা বেড়েছে। শুরুতে খুব ভোরে ঝটিকা মিছিল করলেও পরে দলীয় ও জাতীয় বিভিন্ন দিবসে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর প্রধান সড়কে মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। গত ৬ আগস্ট বিএমপি কমিশনার হিসেবে আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ যোগ দেওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় বরিশালের আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর নগরীতে ডিআইজি কার্যালয়-সংলগ্ন মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১৫ থেকে ১৮ জনের একটি দল আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করে ওই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগাম তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলটির তৎপরতার আগাম তথ্য মাঠ প্রশাসনকে দিতে না পারায় ঘটনার পর পুলিশকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে থানায় কর্মরত বিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ছোটখাটো নানা বিষয়ে খবর মিললেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের তৎপরতার আগাম তথ্য প্রায়ই পাওয়া যায় না। তাদের ভাষ্য, মামলার তদন্ত ও নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আগাম তথ্য না থাকায় এসব ঘটনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তারা বলেন, ‘এমনিতেই মামলার তদন্ত আর নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার চাপ রয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের তৎপরতার খবর আগেভাগে না পাওয়ায় জটিলতায় পড়তে হয়। সবচেড়ে বড় সমস্যা হচ্ছে-এ রকম ঘটনা ঘটলে এর সবটুকু চাপ এসে পড়ে আমাদের ওপর। কৈফিয়ত দেওয়া থেকে শুরু করে শাস্তির মুখোমুখি পর্যন্ত হই আমরা। অথচ আগাম গোয়েন্দা তথ্য পেলে এসব কর্মসূচি ঠেকিয়ে দেওয়া সহজ হতো।’ এ ছাড়া বিএমপির সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তারা। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘নানা বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ হয় আমাদের। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের তৎপরতার বিষয়ে আমাদেরকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হয় না।’ তবে এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নন বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায় না, এটি ঠিক নয়। তথ্য পাওয়া যায় বলেই গত দুই মাসের মধ্যে নগরীর কেন্দ্রে মাত্র একটি অপতৎপরতা চালাতে পেরেছে তারা। সর্বশেষ যে ঘটনা, সেটিও তো নগরের বাইরে। পুলিশের তৎপরতা, চেকপোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নিয়মিত টহলের কারণে নগরীর অভ্যন্তরে এখন আর ভিড়তে পারছে না তারা। তাছাড়া তারা মূলত ঝটিকা মিছিল করছে। তদন্তে দেখা গেছে, বাইরের উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে লোক এনে এরকম দু-একটি অপতৎপরতা করছে তারা। খুব বেশি লোক এর সঙ্গে জড়িত না থাকায় দু-একটি ঘটনা হয়তো জানার বাইরে থাকে। বাকি সবগুলোর খবর পেয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেই তাদের তৎপরতা কমে এসেছে।’ চলতি মাসে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত ৭০ থেকে ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান বিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করি, ভবিষ্যতে তারা এরকম আর অপতৎপরতা করার সাহস পাবে না।’ সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

