![]() কুয়াকাটায় ৩ বছর পর জালে উঠল দুই কেজির ইলিশ, বিক্রি হলো কত টাকায়
৭ October ২০২৬ Wednesday ৫:০৭:৪৬ PM
কুয়াকাটা ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সোহেল খান নামের এক জেলের জালে ধরা পড়েছে দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে সাত হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে জেলে সোহেল খান মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। পরে নিলামে কুয়াকাটা ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী মাছটি কিনে নেন। এর আগে ভোরের দিকে কুয়াকাটার বাংলার ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় খুঁটা জালে মাছটি ধরা পড়ে। জেলে সোহেল খান জানান, তিনি প্রায় ৯-১০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় খুঁটা জাল দিয়ে ইলিশ ধরছেন। মঙ্গলবার জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় আকারের ইলিশটি উঠে আসে। পরে নিলামে প্রতি মণ এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি হয়। সে হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে তিন হাজার ৬২৫ টাকা। দুই কেজি ওজনের মাছটির মোট দাম পড়েছে সাত হাজার ২৫০ টাকা। তিনি বলেন, ‘সচরাচর এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। প্রায় তিন বছর পর এবার এত বড় একটি মাছ পেলাম।’ আক্ষেপ প্রকাশ করে জেলে সোহেল খান বলেন, ‘আর দুদিন পরই নিষেধাজ্ঞার কারণে সব জাল গুটিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতে হবে। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এসময়ে মাছ ধরা বন্ধ রেখে আমাদের কষ্টের দিন কাটাতে হবে।’ কুয়াকাটা ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী বলেন, ‘নিলামে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে মাছটি কিনেছি। এত বড় ইলিশ এখন বাজারে খুব কমই দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছি। মাছটি বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘৩-৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আগে বছরে অন্তত এক-দুবার ঘরে ইলিশ উঠত। এখন সেটাও অনেকটা স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে।’ স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও বরিশাল গেট রেস্টুরেন্টের পরিচালক বাবু বলেন, ‘বড় আকারের ইলিশ ৩-৪ হাজার টাকা কেজি দরে কিনে রেস্তোরাঁয় বিক্রি করা কঠিন। বেশি দামে কিনলে পর্যটকদের কাছেও বেশি দামে পরিবেশন করতে হয়। তাই আমরা সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের, সর্বোচ্চ এক কেজির ইলিশ তুলনামূলক কম দামে কিনে থাকি।’ তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, কিছুটা বড় ইলিশ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং বড় সাইজের ইলিশ তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির অভাবের কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। এসব কারণেও বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া অত্যন্ত ভালো খবর। এটিকে নিষেধাজ্ঞার সুফলও বলা যায়। বড় ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে, যা হৃদযন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।’ মৎস্য কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর থেকে কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, আশাখালী, দুলাসার, চাপলী ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কলাপাড়া উপজেলার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জন জেলের জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদী ও সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

