![]() জীবন হাতে নিয়ে বিষখালী নদী পারাপার
১৫ December ২০১২ Saturday ৪:১৮:১২ PM
বামনা :: বরগুনার বামনায় বিষখালী নদীর বামনা-বদনীখালী ও রামনা- ফুলঝুড়ি খেয়া ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার অথবা নৌকায় পারাপার হচ্ছে। প্রায় চার কিলোমিটার দুরত্বের বিষখালী নদীতে প্রবল ঢেউ ও স্্েরাতে জনসাধারণ অন্তহীন দুর্ভোগে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন। বরগুনার বামনা ও বেতাগী উপজেলার বদনিখালী এবং রামনা ও বরগুনা সদরের ফুলঝুড়ির সংযোগ এ খেয়া ঘাট দুটি দিয়ে বরগুনা জেলা শহরও পটুয়াখালী জেলা শহরে এতদাঅঞ্চলের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এঘাটে কোন ফেরী চালু না করায় সরাসরি যানবাহনের যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে উপকুলীয় বামনা ,পাথরঘাটা ও মঠবাড়িয়া উপজেলার মানুষকে এ রুটে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বামনা-বদনীখালীর বিষখালী নদীতে ফেরী সার্ভিসের অভাবে উপকুলীয় পাথরঘাটা,মঠবাড়িয়া ও বামনা এ তিন উপজেলার সাত লাখ মানুষকে এ রুটে ফেরী না থাকায় সড়ক পথে সরাসরি যাতায়াত সম্ভব হচ্ছেনা। এতে একদিকে যেমন সময়ের অপচয় অন্যদিকে বিষখালী নদীতে ছোট ট্রলার নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে। বামনা শহরের লঞ্চঘাট এলাকার অদুরে একটি ফেরী সার্ভিস চালু করা হলে এ রুটে তিন উপজেলার মানুষের সড়ক পথে যাতায়াত সহজতর হত। বামনা সদরের ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্ঝর কান্তি বিশ্বস ননী জানান, এ রুটটি একটি জন গুরুত্ব পূর্ণ রুট। কারন এ রুটে উপকুলীয় তিনটি উপজেলার মানুষ পটুয়াখালী ,মির্জাগঞ্জ,বাকেরগঞ্জ হয়ে বরিশাল যাতায়াত করে। এছাড়া বেতাগী উপজেলা ও বরগুনা জেলা শহরের মানুষ যাতায়াত করে। আর এ রুটে চলাচলে বামনার-বদনীখালীর বিষখালী নদীর খেয়াঘাট ব্যবহার করতে হয়। তিনি বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটে আজ অবধি ফেরী না হওয়া দুর্ভাগ্য জনক। জানাগেছে, গত ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বরগুনা জেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য বামনার দক্ষিন রামনায় বিষখালী নদীতে একটি ফেরী সার্ভিস উদ্বোধন করেছিলেন। ফেরীটি উদ্ধোধনের পরপরই যান্ত্রিক ক্রুটির কারনে বিকল হয়ে পরে এবং নদীর চরেই ধংষ হয়ে যায়। উদ্বোধনের ২৩ বছর পার হয়ে গেলেও আজ অবধি ফেরী সার্ভিস চালু হয়নি। বামনা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মো. সোহরাফ হোসেন বলেন,বামনার বিষখালী নদীর পূর্ব পাড়ের বদনীখালী, গেরামর্দন, কাউনিয়া, কালিকাবাড়ি, ছোটবদনীখালী, করুণা, কায়েলঘাটা, ঝিঙ্গাবাড়িয়া, পশ্চিম করুণা, গাজিপুরসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের কয়েকশত শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বিষখালী নদী পার হয়ে বামনা উপজেলা সদরে লেখাপড়া করতে আসে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে বদনীখালী-বামনা খেয়াঘাট পার হয়ে আসতে হয়। এতে তারা প্রতদিন চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুতর্যা আহসান বলেন, বামনা বিষখালী নদী তীরবর্তী একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ। আজও জেলা সদরের সাথে এখানে সরাসরি কোন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বামনা-বদনীখালীর বিষখালী নদীর খেয়াঘাটে একটি ফেরী চালু করা হলে এ সংকট দূর হতো। আর উন্নয়ন বঞ্চিত বামনায় একটি ফেরী চালু করা জনস্বার্থে প্রয়োজন।
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||
