![]() সংবিধানের শুরুতে “আল্লাহর নামে চলিলাম” লিখলে কেমন হয়!!দিপু হাফিজুর রহমান ১৫ December ২০১২ Saturday ৪:১৯:০৮ PM
সেদেশে সকালের ঘুম সকালের আগেই ভাঙ্গে, গরমে। ইলেকট্রিসিটি ফল্ট। রাতে ঘুম আসে, রাত শেষ হলে -ঐ একই কারনে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে মাথা ব্যাথা করানোর মতো পর্যাপ্ত মাথা নেই কারো, বরং সংবিধানের জাত গেল কিনা এ ভাবনা- এসি রুমে মিনারেল ওয়াটার সহযোগে, অল্প কিছু মানুষ, বাড়ির মালিকের কাছে জানতে চায় “আইপিএস-টা কোন কম্পানির?” বাড়ির মালিকের উত্তর “আমার আইপিএস-এ এসি চলে না।” সংবিধান প্রস্তুতকারী কম্পানীর ডাক্তার-মোক্তাররা গভীর চিন্তায় পরে যায়। টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় তাদের চিন্তিত মুখ, দেশবাসী দেখে ভাবে…. আহারে উনারা কত ভাবছেন দেশ নিয়ে। উনারাইতো ভাববেন.. উনারা দেশ পয়দা করেছেন, পয়দা করেছেন সংবিধান। কথা হলো, এই সংবিধান তারা পয়দা করেছেন কি নিজেদের রক্ষা করার জন্য না-কি সাধারন মানুষকে!! উনারা সব অবস্থায় ভালো-ই থাকেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন, না থাকাকালীন, এমনকি জেলেও….; কেবল আমরাই আল্লাহর নামে চলছি…, চলছি তো চলছিই। চলতেও বিপত্তি কম নয়। হরতাল কবে, না হলে রিক্সা, সিএনজি, ট্যাক্সি আমরা যেদিকে যাবো সেদিকে যাবেন কিনা, যা ভাড়া ন্যায্য-তাতে রাজী হবেন কিনা, সব কিছু ঠিক থাকলেও কোন দুর্ঘটনায় হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে থাকতে হবে কিনা, ডাক্তার আসবেন কিনা যথা সময়ে, এলে সঠিক ওষুধ দিবেন কিনা??!! আমরা আল্লাহ আল্লাহ করি এবং আল্লাহর নামেই চলি, চলতেই থাকি। আর কিছু লোকের তুমুল বিতর্ক হজম করি “সংবিধান লঙ্ঘিত হলো, কি হলো না।” সম্প্রতি “ডিম আগে না মুরগী আগে’র মতো টিকা-টিপ্পনী, হুমকি-ধামকি আর মারমুখী রাজনীতি-র কারন – তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন; আমরা চিৎকার করে বলি আগে “নিরাপত্তা”। ছিনতাই থেকে, ডাকাতি থেকে, চুরি থেকে, দুর্ঘটনা থেকে আর দলীয় কিংবা বহিষ্কৃত রাজনৈতিক পোষ্যদের হাতে অপঘাতে মৃত্যু থেকে। সব চিৎকার “তত্ত্বাবধায়ক সরকার” আর “যুদ্ধাপরাধীর বিচার” শ্লোগানের নীচে চাপা পরে যায় । কালো, সাদা, সবুজ ছাপা অথবা নীল পোষাকী লোকেরা বলেন, আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে, আরো ভালো হবে, আল্লাহ আল্লাহ করেন। আমরা আল্লাহ আল্লাহ করি আর চলতে থাকি…। এরকম চলেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা, চলতে চলতে একদিন থেমে গেছেন এর-ই কোন না কোন কারনে। তারা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে গিয়েছিলেন “যে যায় লংকায়, সে-ই হয় হনুমান”। আমরা অবিশ্বাস করেছি এবং আল্লহর নামে চলছি। সম্ভ্রান্ত বাসে না লেখা থাকলেও মুড়ির টিন বা সাধারন বাসে প্রায়ই লেখা দেখি, আল্লাহর নামে চলিলাম। তার মানে কি তারা বোঝাতে চায়, ফিটনেস নাই, রুট পারমিট নাই, টায়ারের টেম্পার নাই, যাত্রী ধারন ক্ষমতার কোন নির্দিষ্টতা নাই, ড্রাইভারের কোন লাইসেন্স নাই-প্রশিক্ষন নাই….. আল্লাহর নামে চলিলাম। দু:স্বপ্নে দেখা দেশটাকে আমার ওই বাসের মতো মনে হয়। মনে হয় কেবল আল্লাহর নামে চলছে বলেই বুঝি চলছে, আর কোন কারন নাই। তাই ওই দেশের সংবিধানের পরিবর্তনশীল মালিকদের কাছে আমার প্রস্তাবনা, সংবিধানের শুরুতে এটা লিখলে কেমন হয়- “আল্লাহর নামে চলিলাম”!! – সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” নিয়ে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে কিছু বিতর্ক দীর্ঘদিনের। অসাংবিধানিকভাবে সংবিধান নিয়ে কিছু লিখলে জরুরী ভিত্তিতে জরুরী ব্যবস্থা শুরু হবে কিনা ভেবে দু:স্বপ্নে দেখা এমন একটি দেশের কথা বলছি যা কেবল দু:স্বপ্নেই দেখা যায়। যেখানে সংবিধান রক্ষার জন্য মানুষ হত্যা জায়েজ। আমার প্রসঙ্গ সেদেশের সংবিধানের শুরুতে কি লেখা যায়।