![]() ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে ১৫ বছর প্রতারণা, বাবুগঞ্জে কথিত চিকিৎসককে জরিমানা
১৯ October ২০২৬ Monday ৬:৪৩:৪৯ PM
নিজস্ব প্রতিনিধি: ![]() বরিশালের বাবুগঞ্জে ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস দিয়ে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আলীমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ব্যবস্থাপত্রে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে তাঁর চিকিৎসাগত যোগ্যতার কাগজপত্র ভুয়া বলে শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে এ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে। রোগীদের অভিযোগ, শারীরিক নানা সমস্যার চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁরা আলীমুল ইসলামের সন্ধান পান। এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর খোঁজ পেয়ে বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকার ফার্মেসিতে যান তাঁরা। সেখানে ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের কথা বলতেন তিনি। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। কিন্তু চিকিৎসা নেওয়ার পরও অনেকে উপকার পাননি বলে অভিযোগ করেন। পরে তাঁর চিকিৎসক পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একপর্যায়ে কাগজপত্র ভুয়া বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তাঁরা। অভিযোগ রয়েছে, রোগ নির্ণয়ের পর ওই ফার্মেসি থেকেই ওষুধ কিনতে হতো রোগীদের। এভাবে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও নিয়মিত রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয় দিতেন তিনি। সেখানে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি। তবে অভিযানের সময় তাঁর দেখানো কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করেন। তাঁর দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসার নামে তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। আলীমুল ইসলাম ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করলেও বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, আলীমুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে স্বীকার করেছেন। তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আলীমুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে বিভিন্ন ফার্মেসির মালিকেরা সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত বা অন্য কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

