" />
AmaderBarisal.com Logo

৭ মাসেও চালু হয়নি ৬ কোটি টাকার ভোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র


আমাদেরবরিশাল.কম

২৫ October ২০২৬ Sunday ৭:৩৬:৫১ PM

ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আশার আলো দেখেছিলেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা। কিন্তু বরফকল ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় কোনো স্বপ্নই বাস্তব হয়নি। ফলে কোনো কাজে আসেনি আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।

এদিকে ভবন হস্তান্তরের প্রায় ৭ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো উন্মুক্ত হয়নি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। বর্তমানে এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের আড্ডা দেওয়ার কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

ভোলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের দিকে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের কাঠির মাথা মৎস্য ঘাট এলাকায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভোলা মৎস্য বিভাগের কাছে ভবন হস্তান্তর করে। কিন্তু হস্তান্তরের ৭ মাসেও ব্যবসায়ী ও জেলেদের জন্য উন্মুক্ত হয়নি অবতরণ কেন্দ্রটি।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হলে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করে। এতে আধুনিকতার ছোঁয়ার আশা করছিলেন তারা। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ ও আশা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ম্লান হয়ে যায়।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবি, প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও এখানে মৎস্যজীবীদের জন্য বরফকল, কোল্ড স্টোরেজসহ অন্যান্য সুবিধা রাখা হয়নি।

কাঠির মাথার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আব্বাস ব্যাপারী বলেন, আমাদের ঘাটে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হওয়ার খবরে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষে দেখলাম, এখানে মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য বরফকল, কোল্ডস্টোরেজ, ডিজিটাল স্কেলসহ অন্যান্য মেশিনারিজ কিছু নেই। তাহলে আমাদের কী কাজে আসবে এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। আমরা কি পাকা ভবনে মাছ বিক্রি করার জন্য সেখানে যাব? মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাজে আসবে এমন কিছু না থাকলে কেন যাব আমরা?

এই ঘাটের ব্যবসায়ী মো. নীরব ব্যাপারী ও মো. মহিউদ্দিন ব্যাপারী জানান, অবতরণ কেন্দ্রে মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো কিছু করা হয়নি। শুধু পাকা ভবন ছাড়া আমাদের কোনো কাজেই আসবে না । এছাড়াও ভেতরে মাছ বিক্রির করার জন্য গদি ও মাছের বাক্স করা হয়েছে, যেখানে মাছ রেখে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে নিলাম ডেকে মাছ বিক্রি করা হবে। কিন্তু সেই বাক্সের চারদিকে ৩-৪ জনের বেশি লোক দাঁড়াতে পারবে না। অথচ মাছ নিলাম ডাকার সময় এক গদি বা বাক্সে অন্তত ২০-৩০ জন লোক থাকে। আমরা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যা দেখলাম, অবতরণ কেন্দ্র করার জন্য যে টাকা আসছে সে পরিমাণ কাজ হয়নি।

তারা আরও জানান, প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ভবন হলেও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় অবতরণ কেন্দ্রটি থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ৭ মাসেও এটি চালু করতে পারেনি।

অপরদিকে জেলে ইসমাইল মাঝি, জুলহাজ মাঝি ও বিল্লাল মাঝি বলেন, আগে কাঠির মাথার মৎস্য ঘাট ছিল নদীর সঙ্গে। আমরা নৌকা ও ট্রলার তীরে বেঁধে রেখে মাছ বিক্রি করতে যেতাম। কিন্তু মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হওয়ায় সে জায়গা নেই। ঠিকাদার আমাদের নৌকা ও ট্রলার রাখার কোনো স্থান রাখেনি। এমনকি আমরা যে নদী থেকে এই অবতরণ কেন্দ্রে নৌকা বা ট্রলার ভিড়াবো সেই জায়গাও রাখা হয়নি। আমরা নৌকা ও ট্রলার বাঁধবো কোথায়? এটা হওয়ার আগে ঠিকাদারের লোকজন বলেছে নৌকা ও ট্রলার রাখার আধুনিক ব্যবস্থা করা হবে। কই সেই স্থান?

এদিকে কাঠির মাথা মৎস্য ঘাট থেকে কিছু দূরে ভোলার তুলাতুলি মৎস্য ঘটের আড়তদার মো. ইউনুছ ও কামাল হোসেন জানান, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের স্থান নির্বাচনেও ভুল জায়গা নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ভোলা সদরের সবচেয়ে ছোট মৎস্য ঘাট কাঠির মাথায় স্থাপিত হওয়ায় সেখানে মাছ বেচা-বিক্রি জমবে না। এছাড়াও কোনো বরফকল ও কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় তারা সেখানে যাচ্ছেন না। তবে অবতরণ কেন্দ্রটি যদি তুলাতুলি বা ভোলার খাল অথবা ইলিশা জংশন এলাকায় হতো তাহলে বেশ জমজমাট হতো।

এ বিষয়ে কাঠির মাথা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অবতরণ কেন্দ্রের সিঁড়ির টাইলস্ জেলেরা নৌকা লাগিয়ে ভেঙেছে। যেখানে যে সমস্যা হয়েছিল সেটি সমাধান করা হয়েছে।

তবে বরিশাল মৎস্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌতম কুমার সাহা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঠিকাদারকে সব ভুল ত্রুটি সংশোধন করতে বলা হয়েছে। ঠিকাদার সব করেছে। এছাড়াও নিম্নমানের কাজে হয়নি দাবি করে সাংবাদিকদের ভবনের ম্যাটেরিয়াল টেস্ট করার জন্য বলেন তিনি।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এটি চালু করার জন্য কাঠির মাথা মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছি। কিন্তু প্রতিবারই মৎস্য আড়তদার বা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে বরফকলসহ অন্যান্য সুবিধা নেই, তাই তারা সেখানে যেতে চান না। এসব কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। মৎস্য আড়তদারদের সঙ্গে বারবার কথা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি আমরা সফল হতে পারব। তবে কিছুটা সময় লাগতে পাতে।

এছাড়া অবতরণ কেন্দ্রটির স্থান নির্ধারণ সঠিক হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, যদি এটি ইলিশা কিংবা তুলাতুলি অথবা ভোলার খাল মৎস্য ঘাটে হতো তাহলে এতদিনে চালু হয়ে যেত। ভোলার সবচেয়ে ছোট ঘাটে এটি হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।



সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।