![]() সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে রাতযাপন নিয়ে ধোঁয়াশা
২৭ October ২০২৬ Tuesday ৩:৩৩:৫৮ PM
অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ![]() সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও নভেম্বর মাসে সেখানে রাতযাপনের সুযোগ নিয়ে দেখা দিয়েছে অস্পষ্টতা। গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা চিঠিতে দ্বীপে পর্যটক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।তবে নভেম্বর মাসে সেখানে রাতযাপনে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট না করায় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি ইস্যুকারী কর্মকর্তাও গণমাধ্যম এবং পর্যটনসংশ্লিষ্টদের কাছে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। বিশেষ করে পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তবে কক্সবাজার ৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী সোমবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দ্বীপে রাতযাপন করার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বর্তমান সরকার শিথিল করেছে।কেবল দ্বীপের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’ শাহজাহান চৌধুরীর ভাষ্য, ‘মনে রাখা দরকার, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়, জনগণের নির্বাচিত সরকার। দেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে সরকার বদ্ধপরিকর।’ আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে সরকার।এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে যেতে পারবে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন থাকা দ্বীপটিতে ভ্রমণকারীদের এখন থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছড়া নৌঘাট থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক জাহাজগুলো চলাচল করবে। সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের শাখা-২ থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে রাতযাপনে নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ পাশ সংগ্রহ ও অন্যান্য শর্তের কথা উল্লেখ নেই।তবে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর একই মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের শর্তাবলি একই সঙ্গে বলবৎ থাকবে উল্লেখ করায় নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি। একই সঙ্গে পর্যটক ও পর্যটনসেবীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনায় নভেম্বর মাসে দ্বীপে রাতযাপনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মাসটিতে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়। কেবল ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপন করা যাবে বলে জানানো হয়। ওই নির্দেশনায় আরো বলা হয়, দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপ ভ্রমণে যেতে পারবে না। সেই সঙ্গে এনআইডি কার্ড সহকারে অনলাইনে ভ্রমণ পাশ সংগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, সমুদ্রের কাছিমের ডিম পাড়ার স্থানে আলো জ্বালানো যাবে না এবং দ্বীপের জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। গত রবিবার ইস্যু হওয়া মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনটি বলবৎ থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এর পর থেকে নভেম্বর অর্থাৎ মৌসুমের প্রথম মাসে রাতযাপনের সুযোগ নিয়ে ভ্রমণকারী ও পর্যটনসেবীরা দ্বিধায় পড়েছেন। এতে নতুন মৌসুম ঘিরে আশায় থাকা দ্বীপের পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে আগের সিদ্ধান্ত (২০২৫ সালের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন) বহাল রাখা হয়েছে। তবে তিনি নভেম্বর মাসে রাতযাপনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে চলাচলকারী পর্যটক জাহাজ মালিকদের প্রতিনিধি হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুরের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের মোবাইল আলাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে তিনি রাতযাপনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মধ্য মার্চ (সাড়ে চার মাস) পর্যন্ত ভ্রমণের সময়টি ‘পর্যটকদের জন্য খোলা’ থাকার কথা বলেন। তবে রবিবারের চিঠিতে এমন বিষয়ে ষ্পষ্ট কিছুই উল্লেখ না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের রবিবারের চিঠিতে দ্বীপ ভ্রমণের তারিখ ঘোষণার পরই পর্যটনসেবীরা তাদের হোটেল-রিসোর্ট সংস্কারের কাজে নেমে পড়েন। যে রিসোর্টের চালা বা ঘেরা-বেড়া নষ্ট হয়েছে, তা রাতারাতি মেরামত করা হচ্ছে। দ্বীপের জাহাজ ভেড়ার জন্য শেষের পথে জেটির কাজও। বর্তমানে জেটির পল্টুনের কাজ চলছে। আগামী ১ নভেম্বরের আগেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নভেম্বরে পর্যটকদের রাতযাপন করা যাবে না-মর্মে খবর প্রচারিত হলে আবারো দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় বলে জানান তিনি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবিবার আমরা আনন্দে মেতেছি, কিন্তু রাত পোহাবার পর আবার মাথার ওপর যেন বাজ পড়েছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের ওপর এমন আইন চাপিয়ে দেওয়া হবে কেন?’ তিনি বলেন, ‘ধার-কর্জ করে একটি রিসোর্ট করেছিলাম, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে একটি টাকাও সেখান থেকে আয় করতে পারিনি।’ দ্বীপের বাসিন্দা আয়াতুল্লাহ খোমেনী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমুদ্র কানন’ নামের ১৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি রিসোর্ট রয়েছে আমার। অন্য কোনো ব্যবসা নেই। পর্যটন মৌসুমই আমার পরিবারের ব্যবসা। ইউনূস সরকারের মতো দ্বীপে পর্যটক আসতে না দিলে আমাদের উপোস থাকতে হবে।’ হাবিবুল্লাহ নামের অপর একজন বাসিন্দা বলেন, ‘দ্বীপের মানুষ এখন পর্যটননির্ভর হয়ে পড়েছে। মাত্র পাঁচ কক্ষের একটি কটেজের আয় দিয়ে বছরের অর্ধেক সময় আমার ছোট্ট পরিবারের ভরণ-পোষণ হয়। কিন্তু আবার যদি কোনো নিষেধাজ্ঞার কবলে আমাদের পড়তে হয়, তাহলে পথে বসা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।’ হাবিবুল্লাহ জানান, রবিবার মন্ত্রণালয়ের চিঠির ঘোষণা প্রচারের পর থেকে কটেজের কক্ষ বুকিং নিতে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক মোবাইলে যোগাযোগ করা শুরু করেছেন, কিন্তু রাতযাপনের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার কারণে কোনো পর্যটকই আগাম কক্ষ বুকিং নিতে ঝুঁকিও নিচ্ছেন না, জাহাজগুলোও টিকিট বিক্রি করছে না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত রবিবারের চিঠি নিয়ে টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরীও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘তবে বিষয়টি তেমন বড় কিছু নয়। আগামী বুধবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিষয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হবে। ওই সভায় বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার করা হবে।’ পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দ্বীপে ভ্রমণের অনুমতির খবর পাওয়ার পর অনেক পর্যটক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মূল প্রশ্ন, নভেম্বর মাসে সেন্ট মার্টিনে রাতে থাকা যাবে কিনা। রাতযাপনের সুযোগ নিশ্চিত হলে আগাম কক্ষ বুকিং দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকে। অন্যথায় এ মাসে দ্বীপ ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা। জাহাজ ব্যবসায়ীরাও বলছেন, টিকিটের খোঁজ নিতে যোগাযোগ করা পর্যটকদের একটি বড় অংশ নভেম্বর মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। এ সুযোগ না থাকলে অনেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা তাদের। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

