![]() এমপি মাসুদ সাঈদীর ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন
২৮ October ২০২৬ Wednesday ১:২৩:২৭ PM
কলাপাড়া ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() সমুদ্রের ধারে পাঁচতারকা হোটেল। সঙ্গে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ। প্রচারে দাবি, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র। বিনিয়োগের সুযোগ মাত্র চার লাখ টাকা থেকে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বছরে নির্দিষ্ট সময় বিনামূল্যে থাকার সুবিধা। বছর শেষে মুনাফার ভাগ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। কুয়াকাটায় এমনই এক পর্যটন প্রকল্পের নাম ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনাটি নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি মরহুম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন মাসুদ সাঈদী। তার প্রচার অনুযায়ী, এখানে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতকারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রচারে শেয়ার কিনে অংশীদার হওয়ার সুযোগের কথাও রয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিনা মূল্যে অবস্থান ও বার্ষিক মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও প্রচার করা হয়েছে। তবে বিনিয়োগের শর্ত, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ও লভ্যাংশের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ এর ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়নি। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। এছাড়া প্রকল্পটির অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়ার হাড়িপাড়ার বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান এ জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তার দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার দাদা চিথাও ও অপর আরেকজন নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা করছেন। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

