![]() বরগুনা: ডাকবাংলো থেকে ৩ লাশ উদ্ধার—মেয়েদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ইতি রানী : পুলিশ
৩০ October ২০২৬ Friday ৪:৫০:০৩ PM
বরগুনা প্রতিনিধি: ![]() চার লাখ টাকার বেশি ঋণ, সংসারের অভাব-অনটন আর কিস্তি পরিশোধের দুশ্চিন্তা—এসবের চাপে দুই মেয়েকে হত্যার পর মা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।তবে পুলিশের এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী ও নিহত নারীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান। পুলিশ জানায়, গত ৩ মার্চ বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলার তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪) এবং তার দুই মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন সকালে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলায় গিয়েছিলেন ইতি রানী।এ ঘটনায় তার স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশের দেওয়া তথ্যে সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে— ফুটেজ অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে ইতি রানী ৩ নম্বর কক্ষ থেকে বেরিয়ে ১১টা ১৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ৪ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের কাউকেই জীবিত অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হতে দেখা যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে ইতি রানী দুই মেয়েকে কোমল পানীয় অথবা খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পান করানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করে থাকতে পারেন। পরে নিজেও চেতনানাশক ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যে ময়নাতদন্তে যা বলছেন চিকিৎসকেরা— অন্যদিকে, আরাধ্যা ও অনুরাধার মৃত্যুর কারণ হিসেবে একই ধরনের রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার পাশাপাশি আঘাতজনিত শ্বাসরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মৃত্যু হত্যাজনিত বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। তবে তিনজনের কারও ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চার লাখ টাকার বেশি ঋণ— পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইতি রানী পাঁচটি এনজিও থেকে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা এবং দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এ ছাড়া অনিল রায় ও বাবুল রায়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেন তারা। সব মিলিয়ে তাদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা। তদন্তে বলা হয়েছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে ইতি রানী মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগতেন। সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন তিনি। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ তার হতাশার অন্যতম কারণ ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি। তাতে কী লেখা এসেছে, তাও জানি না। ঋণের কারণে আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে মেরে ফেলবে, তা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই।’ বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

